সেমিফাইনালের ক্ষত ভুলে ফ্লোরিডার হার্ড রক স্টেডিয়ামে এক ঐতিহাসিক ফুটবল রূপকথা লিখল ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স। আক্রমণ ও প্রতি-আক্রমণের এক রোমাঞ্চকর গতিশীল ম্যাচে ফ্রান্সকে ৬-৪ ব্যবধানে হারিয়ে তৃতীয় স্থান দখল করেছে থ্রি লায়নসরা। ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপে এটিই ইংল্যান্ডের সেরা সাফল্য।
তবে ১০ গোলের এই ম্যাচে সবচেয়ে বড় ঘটনা ফরাসি স্ট্রাইকার কিলিয়ান এমবাপ্পের ২ গোল, যা নিয়ে এবারের আসরে তার মোট গোল সংখ্যা দাঁড়ালো ১০। এর মধ্য দিয়ে টানা দ্বিতীয়বার গোল্ডেন বুট জেতার অনন্য ইতিহাস গড়ার পথে অনেকটাই এগিয়ে গেলেন তিনি। তার পেছনেই আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি, যার গোল সংখ্যা ৮। মেসির সামনে রয়েছে আর এক ম্যাচ, গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে এমবাপ্পেকে ছাড়িয়ে যেতে তাকেও করতে হবে কমপক্ষে ২ গোল।
এছাড়া বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে সর্বোচ্চ ২২ গোল করার রেকর্ডেও আপাতত নিজের নাম বসিয়েছেন এমবাপ্পে। তাকে ছাড়িয়ে যেতে পারেন শুধু মেসি. যার গোল সংখ্যা ২১।
এমবাপ্পে-মেসির এই লড়াই ছাড়াও তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি নিজের জীবনে স্মরণীয় করে নিয়েছেন ইংলিশ স্ট্রাইকার সাকা, বিশ্বকাপের মতো আসরে করেছেন হ্যাট্রিক।
ম্যাচ শুরু হতেই ফরাসি রক্ষণে কাঁপন ধরায় জার্মান টমাস টুখেলের ইংলিশ শিষ্যরা। ম্যাচের মাত্র ৩ মিনিটে ডিক্লান রাইসের দূরপাল্লার শটে লিড নেয় ইংল্যান্ড। ১৮ মিনিটে রাইসের কর্নার থেকে দুর্দান্ত হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এজরি কোন্সা। এরপর শুরু হয় বুকায়ো সাকার একক প্রদর্শনী। ৩৭ মিনিটে মার্কাস রাশফোর্ডের পাস থেকে ম্যাচের প্রথম গোল করেন সাকা। প্রথমার্ধের ঠিক শেষ মুহূর্তে এবেরেশি এজের সহায়তায় নিজের দ্বিতীয় গোল করে দলকে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে নিয়ে বিরতিতে যান এই আর্সেনাল ফরোয়ার্ড।
বিরতির পর ৪ গোলে পিছিয়ে থেকেও অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই শুরু করে দিদিয়ে দেশমের ফ্রান্স। ফরাসিদের এই লড়াইয়ের সেনাপতি ছিলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ৪৮ মিনিটের মাথায় দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই দারুণ এক ফিনিশিংয়ে ফ্রান্সের হয়ে প্রথম গোল করেন তিনি। এর ঠিক ছয় মিনিট পর ব্রাদলে বারকোলার গোলে ব্যবধান আরও কমায় ফ্রান্স।
ম্যাচ জমিয়ে তুলতে ৬৬ মিনিটে মরণকামড় দেন এমবাপ্পে। বক্সে বল পেয়ে দারুণ শটে ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। এই জোড়া গোলের সুবাদে টুর্নামেন্টে নিজের গোলসংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক আসরে নিজের মোট ১০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করলেন এমবাপ্পে।
ফ্রান্স যখন ৪-৩ ব্যবধানে ম্যাচ জমিয়ে তুলেছে, তখন ৮৭ মিনিটে পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড। অত্যন্ত স্নায়ুচাপের মুহূর্তে স্পট-কিক থেকে বল জালে জড়িয়ে বিশ্বকাপে নিজের দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন বুকায়ো সাকা। ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে ফ্রান্সের উসমান দেম্বেলে গোল করে স্কোরলাইন ৫-৪ করলে ম্যাচটি চূড়ান্ত নাটকীয়তার দিকে মোড় নেয়। তবে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেষ মুহূর্তে বদলি হিসেবে নামা জুড বেলিংহাম এক অনবদ্য একক প্রচেষ্টায় গোল করে ইংল্যান্ডের ৬-৪ ব্যবধানের অবিস্মরণীয় জয় নিশ্চিত করেন।
ফ্রান্সকে হারিয়ে ১০ গোলের এই রোমাঞ্চকর জয় থ্রি লায়নস ভক্তদের মনে দীর্ঘদিন গেঁথে থাকবে, যেখানে রূপালি অক্ষরে লেখা থাকবে সাকার হ্যাটট্রিক আর এমবাপ্পের রেকর্ড ডাবল।


