মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় বসতঘর থেকে স্ত্রী ও দেড় মাস বয়সী শিশুকন্যাসহ এক প্রবাসীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার দুপুরে উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বারাহী জান্না কান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পারিবারিক কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে স্থানীয়দের ধারণা। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নিহতরা হলেন ওই এলাকার নুরুল হকের ছেলে প্রবাসী আকরাম হোসেন (৪০), তার দ্বিতীয় স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা আক্তার (২২) এবং তাদের দেড় মাস বয়সী কন্যাশিশু।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আকরাম দীর্ঘদিন সৌদি আরবে ছিলেন। প্রায় এক সপ্তাহ আগে তিনি দেশে ফেরেন। শনিবার দুপুরে পরিবারের সদস্যরা তাদের কোনো সাড়া না পেয়ে ঘরে গিয়ে তিনজনের মরদেহ দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করে।
নিহত আকরামের স্বজন মামুনুর রশিদ জানান, দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে তিনি আকরামের আত্মহত্যার খবর পান। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে বিষয়টি জানান। তার ধারণা, পারিবারিক কোনো বিষয়কে কেন্দ্র করে আকরাম প্রথমে তার স্ত্রীকে এবং পরে শিশুটিকে হত্যার পর আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তবে এ বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।
মামুনুর রশিদ আরও বলেন, ‘আকরাম এর আগে দেশে এসে স্বাভাবিকভাবেই চলাফেরা করতেন। তবে এবার দেশে ফেরার পর তিনি তেমন বাইরে বের হতেন না। তার চলাফেরাও স্বাভাবিক মনে হয়নি।’
স্থানীয় প্রতিবেশী মোহাম্মদ আবুল হাশেম বলেন, ‘আকরাম ও তার দুই ভাই সৌদি আরবে থাকেন। আকরাম ভালো ছেলে ছিলেন। তার কোনো ঋণ আছে বলে জানা নেই। বিদেশ থেকে দেশে ফেরার পর কী কারণে এমন ঘটনা ঘটল, তা বুঝতে পারছি না।’
স্থানীয়রা জানান, আকরাম ও প্রিয়াঙ্কার এটি দ্বিতীয় বিয়ে। তাদের সংসারে দাম্পত্য কলহ ছিল কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। মরদেহগুলোর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। কীভাবে এ ঘটনা ঘটেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্ত ও তদন্তের পর তিনজনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।


