দেশব্যাপী ক্রীড়া চর্চা ছড়িয়ে দিতে চায় সরকার: গণপূর্তমন্ত্রী

দেশব্যাপী ক্রীড়া চর্চা ছড়িয়ে দিতে চায় সরকার: গণপূর্তমন্ত্রী
ছবি: সৌজন্যে
Advertisement
Advertisement

দেশব্যাপী ক্রীড়া চর্চাকে ছড়িয়ে দেওয়া সরকারের অঙ্গীকার বলে মন্তব্য করেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের।

তিনি বলেন, ‘ঢাকা ও বড় শহরগুলোতে পর্যাপ্ত খেলার মাঠের অভাব রয়েছে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা এসব মাঠকে শুধু একটি নির্দিষ্ট খেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দক্ষ ব্যবস্থাপনায় হস্তান্তর করা হলে মাঠগুলোর সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হবে।’

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক চুক্তি সই অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ধানমন্ডি ক্রিকেট মাঠ (আবাহনী মাঠ) ও ধানমন্ডি মাঠ দুটি সংরক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মধ্যে এই সমঝোতা স্মারক সই হয়।

গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পক্ষে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালক মো. দৌলতুজ্জামান খাঁন এতে সই করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক, গৃহায়ন এবং গণপূর্ত সচিব মো. ওবায়দুর রহমান এবং যুব ও ক্রীড়া সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম।

আরও পড়ুন

গণপূর্তমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার প্রতিটি পাড়া ও মহল্লায় খেলার সুযোগ তৈরি এবং ক্রীড়া চর্চাকে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া। দেশের ক্রীড়া অবকাঠামোর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মালিকানাধীন খেলার মাঠগুলো যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তরের লক্ষ্যে এই সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী তাহের বলেন, তাদের লক্ষ্য রাজধানীর খেলার মাঠগুলোতে সর্বস্তরের মানুষের জন্য খেলাধুলার সুযোগ নিশ্চিত করা। যা শিশু-কিশোর ও তরুণ-তরুণীসহ সর্বস্তরের মানুষের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেন, বিগত ১৭ বছরের ক্লাবগুলোর রাজনৈতিকীকরণ দূর করে নিরপেক্ষ পরিবেশ ফিরিয়ে আনা, আন্তর্জাতিক মানের অবকাঠামো তৈরি করা এবং মাঠগুলোকে সাধারণ মানুষ ও তরুণদের জন্য উন্মুক্ত করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য।

তিনি বলেন, ধানমন্ডি মাঠে আর্চারি ও শুটিংয়ের পরিকাঠামো এবং আবাহনী মাঠের খেলাধুলার সুযোগ-সুবিধা সংস্কার করে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। পিপিপি মডেলে এই উন্নয়ন কাজ শুরুর পর ঢাকার অন্যান্য গণপূর্ত মাঠগুলোকেও পর্যায়ক্রমে একইভাবে আধুনিকায়ন করা হবে। তৃণমূলের প্রকৃত প্রতিভা অন্বেষণে দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে ১০টি ইভেন্টে দল গঠন করা হচ্ছে। দ্বিতীয় আসরে ইতোমধ্যে ১৫ লাখের বেশি অনলাইন রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়েছে, যা ২০ লাখে পৌঁছাবে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ধানমন্ডি মাঠে আবাহনী অনুশীলনের সুযোগ পাবে।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব মো. ওবায়দুর রহমান এবং যুব ও ক্রীড়া সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম সমঝোতা স্মারকের বিষয়ে বক্তব্য দেন। তারা বলেন, মাঠ দুটি দেশের ক্রীড়া ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় আগামী পাঁচ বছর মাঠ দুটি সংরক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা করবে। পরবর্তীতে উভয় পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে এই চুক্তির মেয়াদ নবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম, যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ হাসানসহ উভয় মন্ত্রণালয় ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর