মিয়ানমারের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র দুই মাসের মধ্যে সামরিক জান্তা নেতা মিন অং লাইং তার দুই শক্তিশালী প্রতিবেশী ভারত ও চীনে গুরুত্বপূর্ণ সফর শেষ করেছেন। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর থেকে মিয়ানমার আন্তর্জাতিকভাবে যে নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েছিল, সেই কূটনৈতিক জটিলতা কাটিয়ে নিজের অবস্থান শক্ত করতে তার জন্য এই সফর দুটি ছিল ভীষণ দরকারি।
সফর বিশ্লেষণ
এই দুই সফরের মধ্য দিয়ে মিয়ানমারের কূটনীতিতে একটি বড় পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ক্ষমতা দখলের পর ভারতে এটিই তার প্রথম সফর, আর চীনে গিয়েছেন তিনবার। তবে আগের সফরগুলোর সাথে এবারের বড় তফাৎ হলো—আগে তিনি চীনের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে অনেক দেশের নেতার ভিড়ে একজন হিসেবে যেতেন, কিন্তু এবার গেছেন সরাসরি দুই দেশের একান্ত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে।
এই সফরগুলোর দিকে তাকালে মিয়ানমারকে নিয়ে ভারত ও চীনের নিজস্ব স্বার্থ এবং হিসাব-নিকাশের আসল রূপটি পরিষ্কার হয়ে ওঠে। জান্তা প্রধানের এই সফরের উদ্দেশ্যগুলোকে মূলত তিনটি ভাগে ভাগ করে আলোচনা করা যায়।
প্রথমত, নিরাপত্তা ও কৌশলগত দিক থেকে ভারতের কাছে মিয়ানমার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারত সবসময় তার ‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতি এবং পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক জোরদার করার (অ্যাক্ট ইস্ট) ওপর জোর দেয়। মিয়ানমারে চীনের কড়া নজরদারি ও বাড়তে থাকা প্রভাব নিয়ে নয়াদিল্লীর মনে বড় রকমের ভয় রয়েছে। তাই নিজেদের উত্তর-পূর্ব সীমান্তের রাজ্যগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারতও মিয়ানমারের পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে।
অন্যদিকে, চীনের মূল লক্ষ্য হলো ‘চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর’ প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া। এই স্বার্থেই চীন-মিয়ানমার সীমান্তে শান্তি বজায় রাখা এবং ভারত মহাসাগরে সরাসরি যাতায়াতের পথ নিশ্চিত করা বেইজিংয়ের জন্য খুব জরুরি। এজন্য বন্ধ থাকা সীমান্ত বাণিজ্য আবার চালু করতে চীন এখন উত্তর-শান প্রদেশের বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সাথে শান্তি আলোচনায় মূল মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে।
নিজের স্বার্থ আদায়ের জন্য চীন যেমন বুদ্ধির চাল চালছে, তেমনি প্রয়োজনে চাপ সৃষ্টি করতেও পিছপা হচ্ছে না। এক কথায়, মিয়ানমারের ভেতরের পরিস্থিতি চীন নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে।
এদিকে জান্তা প্রধান মিন অং লাইংয়ের নিজের লক্ষ্য হলো—পশ্চিম সীমান্ত তথা রাখাইন ও চিন প্রদেশ এবং সাগাইন-মাগওয়ে অঞ্চলে সামরিক নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো। পাশাপাশি উত্তর-শান প্রদেশের বাণিজ্য পথ সচল রাখতে সেখানে অন্তত কিছুটা শান্তি বজায় রাখার চেষ্টা করছে সামরিক সরকার। এই পরিস্থিতিতে মিয়ানমার ভারতের সাথে সামরিক ও রাজনৈতিক বন্ধুত্ব বাড়িয়ে ফায়দা তুলতে চায়। তবে বাস্তবতা হলো, চীন মিয়ানমারকে এমনভাবে আষ্টেপৃষ্টে বেঁধে ফেলেছে যে, চীনের প্রভাব এড়িয়ে চলা মিয়ানমারের পক্ষে অসম্ভব।

দ্বিতীয় বড় বিষয়টি হলো অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অবকাঠামো নির্মাণ। ভারতের জন্য মিয়ানমারে নির্মাণাধীন ‘কালাদান বহুমুখী পরিবহন প্রকল্প’ এবং ভারত-মিয়ানমার-থাইল্যান্ড আন্তর্জাতিক মহাসড়ক প্রকল্প দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশের মধ্যে ৫০০ কোটি ডলারের বাণিজ্য লক্ষ্যমাত্রা ছোঁয়ার জন্য ভারত ও মিয়ানমারের নিজস্ব মুদ্রা (রুপি ও কিয়াত) দিয়ে লেনদেনের বিষয়টি নয়াদিল্লীর কাছে অগ্রাধিকার পাচ্ছে।
পাশাপাশি মিয়ানমারে থাকা দামী ও বিরল খনিজ সম্পদের (রেয়ার আর্থ) ওপর ভারতের রয়েছে কড়া নজর। আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ‘ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট’ জানিয়েছে, পৃথিবীর মোট বিরল খনিজের প্রায় ১৬ শতাংশ মিয়ানমারে রয়েছে। ভারত এই খনিজের খোঁজে মিয়ানমারের দিকে হাত বাড়ালেও, সেখানকার বেশিরভাগ খনি ইতিমধ্যেই চীনা বিনিয়োগকারীদের দখলে চলে গেছে। আর এই চীনা ব্যবসায়ীরা বাজারের মূল নিয়ন্ত্রক হওয়ায় তারা যেকোনো সময় সরবরাহ বন্ধ করে দিতে পারে। ভারতের আরেকটা বড় ভয় হলো, এই খনি এলাকাগুলো এখন জান্তাবিরোধী কাচিন বিদ্রোহী বাহিনীর (কেআইএ) নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
একই সময়ে চীনও বসে নেই। তারা মিয়ানমারে তাদের প্রধান প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত শেষ করতে চায়, যার মধ্যে রয়েছে কিয়াকপিউ গভীর সমুদ্র বন্দর এবং মুজে থেকে মান্দালয় পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ। চীনের নিজস্ব মুদ্রা আরএমবি এবং মিয়ানমারের কিয়াতের মাধ্যমে সরাসরি ব্যবসা করা এবং বন্ধ সীমান্ত পথগুলো খুলে দেওয়া বেইজিংয়ের প্রধান দাবি।
চীনা কর্তৃপক্ষের অনুরোধে জান্তা সরকার এখন তাদের দেশের বিতর্কিত ‘মিটসোন বাঁধ’ প্রকল্পের কাজ আবার শুরু করার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে। এই বাঁধ চালুর মাধ্যমে মিয়ানমার যেমন চীনকে খুশি করতে চাচ্ছে, তেমনি বিনিময়ে উত্তর সীমান্তের কাচিন বিদ্রোহীদের (কেআইএ) দমনে চীনের সাহায্য আশা করছে।
দেশের ভেতরের তীব্র ডলার সংকট মেটাতে মিন অং লাইং ভারত ও চীন—উভয় দেশের কাছেই বিপুল আর্থিক ও বিনিয়োগ সহায়তা চেয়েছেন। এই কারণে একদল বড় ব্যবসায়ীকে তিনি সফরে সাথে নিয়ে গিয়েছিলেন। চীন সফরের সময় সাংহাইতে বেশ বড় পরিসরে একটি যৌথ বাণিজ্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ভারতেও একই ধরনের একটি বাণিজ্য বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল, তবে চীনের জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের তুলনায় ভারতের অনুষ্ঠানটি ছিল বেশ ম্যাড়মেড়ে। তথ্য বলছে, ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসেই মিয়ানমারে চীনের বিশাল বিনিয়োগ চলে এসেছে, যেখানে ভারতের বিনিয়োগের গতি খুবই ধীর।
তৃতীয় বিষয়টি হলো কূটনীতি ও মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব (সফট পাওয়ার)। এক্ষেত্রেও ভারত ও চীনের মধ্যে স্পষ্ট তফাৎ রয়েছে। বিশ্বজুড়ে মিয়ানমারকে একঘরে করে রাখার যে আন্তর্জাতিক চেষ্টা চলছে, ভারত তা সমর্থন না করে মিয়ানমারের সাথে যোগাযোগ বজায় রাখছে। অন্যদিকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নিজস্ব নির্বাচনী পরিকল্পনাকে পুরোপুরি রাজনৈতিক সমর্থন দিচ্ছে চীন। তবে পার্থক্য হলো, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রকাশ্যে মিয়ানমারে সব দলের অংশগ্রহণে একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার কথা বলেন, কিন্তু চীন এই ধরনের মন্তব্য এড়িয়ে চলে।

এখানে লক্ষ্য করার মতো বিষয় হলো, মিয়ানমারের আগের নির্বাচিত এনএলডি সরকারের আমলে চীন যেসব বড় চুক্তিতে সই করেছিল, এই সফরে সে ধরনের নতুন কোনো বড় চুক্তি করা হয়নি। এর অর্থ হলো, আগের সরকারের চুক্তিগুলোকেই চীন সম্পূর্ণ বৈধ মনে করে এবং নতুন চুক্তির প্রয়োজন দেখছে না। এবার যে ১৮টি সাধারণ সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে, সেগুলো মূলত কম ঝুঁকিপূর্ণ এবং সহজে করা সম্ভব; যেমন—গণমাধ্যম সহযোগিতা, সাংস্কৃতিক বিনিময়, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ভূমিকম্প পরবর্তী পুনর্বাসন। এই কাজগুলোর মাধ্যমে চীন মূলত মিয়ানমারে নিজের সাংস্কৃতিক প্রভাব বাড়াতে চায়। একই সাথে চীন চায় মিয়ানমার যেন তাদের আন্তর্জাতিক উদ্যোগগুলো (যেমন—গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ও গ্লোবাল সিকিউরিটি ইনিশিয়েটিভ) আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন করে।
জান্তা সরকার চীনের এই কূটনৈতিক সাহায্য লুফে নিতে চায়, যাতে বেইজিংয়ের জোরালো সমর্থনে তারা জাতিসংঘে নিজেদের আসন টিকিয়ে রাখতে পারে এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট ‘আসিয়ান’-এ আবার সসম্মানে ফিরতে পারে। তবে হিসাব কষলে দেখা যায়, মিন অং লাইং প্রথমে ভারত সফরে গেলেও চীনের ওপর মিয়ানমারের যে বিশাল নির্ভরশীলতা রয়েছে, তা কমানো ভারতের পক্ষে সম্ভব নয়।
আঞ্চলিক নেতাদের সাথে সম্পর্ক মজবুত করতে চীন মিন অং লাইংয়ের মতো নেতাদের বেইজিংয়ে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে। যেমন, চীনা প্রেসিডেন্ট সি জিনপিং ৮-৯ জুন উত্তর কোরিয়া সফর করেন। এর পরপরই বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৪-২৬ জুন চীন সফরে যান এবং চীনা প্রেসিডেন্টের সাথে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে চীন অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে ‘চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর’ গড়ার প্রস্তাব তোলে। ঠিক একই মাসে কম্বোডিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হুন সেনও চীন সফর করে প্রেসিডেন্ট সি জিনপিংয়ের সাথে বৈঠক করেন।
আগামী দিনের পূর্বাভাস
জান্তা প্রধানের এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ সফরের পর আগামী দিনে মিয়ানমার পরিস্থিতিতে তিনটি বড় পরিবর্তন আসতে পারে:
প্রথমত, জান্তা সরকারের সাথে ভারতের যোগাযোগ বাড়লেও মাঠপর্যায়ে কাজ করা ভারতের জন্য কঠিন হবে। কারণ, ভারত-মিয়ানমার-থাইল্যান্ড মহাসড়কের মিয়ানমার অংশের বেশিরভাগ এলাকাই এখন বিদ্রোহীদের দখলে। ভারতের স্বপ্নের কালাদান প্রকল্প এলাকাটি পুরোপুরি ‘আরাকান আর্মি’ নিয়ন্ত্রণ করছে। সীমান্ত বাণিজ্যের ‘রাখদাওদার’ পথটি রয়েছে চিন বিদ্রোহীদের হাতে। আর উত্তরের মূল্যবান খনি অঞ্চলগুলো শাসন করছে কাচিন বিদ্রোহীরা। ফলে মিয়ানমারে ভারতীয় স্বার্থ রক্ষা করা শুধু জান্তা সরকারের ওপর নির্ভর করছে না, বরং বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর ওপরও নির্ভর করছে। এই কারণে নিজেদের স্বার্থে ভারত এখন বাধ্য হয়েই পর্দার আড়াল থেকে এই সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সাথে যোগাযোগ বাড়াবে।
দ্বিতীয়ত, চীনের আগের শান্তি আলোচনার অভিজ্ঞতা এবং সীমান্ত বাণিজ্যের দিকে তাকালে বোঝা যায়, এবারের চুক্তিগুলো করা হয়েছে কম ঝুঁকিতে দ্রুত সুবিধা পাওয়ার জন্য। মিয়ানমারের গবেষণা সংস্থা ‘আইএসপি মিয়ানমার’ মনে করে, চীন মূলত তিনটি লক্ষ্য নিয়ে মিয়ানমারে কাজ করছে—১. দেশের ভেতরের যুদ্ধবিগ্রহ কমিয়ে আনা, ২. নির্বাচনের মাধ্যমে সরাসরি সামরিক শাসনের অবসান ঘটানো এবং ৩. নির্বাচনের পর চীনা মধ্যস্থতায় একটি বড় শান্তি আলোচনা শুরু করা।
এই শেষ লক্ষ্যটি খুব দ্রুতই দেখা যাবে। গত জুন মাসেই জান্তা সরকারের শান্তি কমিটি শান প্রদেশে গিয়ে এনডিএএ এবং ইউডব্লিউএসপি নামের শক্তিশালী আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলোর সাথে বৈঠক করেছে। পাশাপাশি নেপিতোতে শান স্টেট প্রগ্রেসিভ পার্টির সাথেও উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। এসব বৈঠক থেকে বোঝা যায়, উত্তর ও পূর্ব সীমান্তে শান্তি ফিরিয়ে এনে বাণিজ্য পথগুলো দ্রুত খুলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে, যেখানে দুই দেশের যৌথ বাণিজ্য সমিতি (এমসিআইটিপি) মূল ভূমিকা পালন করবে।
তৃতীয়ত, মিয়ানমার সেনাবাহিনী দেশজুড়ে তাদের সামরিক অভিযান আরও জোরদার করতে পারে। কারণ, দুই দেশেই মিন অং লাইং প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে তিনি বিদেশী বিনিয়োগের সম্পূর্ণ নিরাপত্তা দেবেন। এমনকি বিতর্কিত মিটসোন বাঁধের কাজ শুরু করার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমাও দিয়েছেন। এই সমস্ত প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হলে মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে প্রকল্প এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং বিদ্রোহীদের হাত থেকে খনি ও সম্পদগুলোর নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নিতে হবে। এর ফলে আগামী দিনগুলোতে মিয়ানমারের পশ্চিম, মধ্য এবং উত্তরের কাচিন এলাকায় জান্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে এক বিশাল ও ভয়াবহ সাঁড়াশি সামরিক অভিযানের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
লেখক: থাইল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত। মিয়ানমারের ‘ইনস্টিটিউট ফর স্ট্যাবিলিটি অ্যান্ড পিস’-এ জুলাই ২, ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত প্রবন্ধের তথ্য অবলম্বনে।


