ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ডিএমসি) আগামী ২০-২৫ বছরের মধ্যে ‘দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ চিকিৎসা শিক্ষাকেন্দ্র হবে’ এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক শিক্ষার্থী ও প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী কার্ডিওলিস্ট জুবাইদা রহমান।
শনিবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ‘ডিএমসি ডে’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে তিনি এই কথা বলেন।
জুবাইদা রহমান বলেন, ‘আমরা ঢাকা মেডিকেল কলেজকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে দেখতে চাই।’
তিনি আরও বলেন, ডিএমসির আগামী অধ্যায়টি শুধু অতীতের গৌরবের ধারাবাহিকতা নয়; এটি হবে নতুন উদ্ভাবন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও মানবিক নেতৃত্বের এক নতুন দিগন্ত। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভিত্তি জ্ঞান হলেও চিকিৎসা পেশার প্রকৃত ভিত্তি হলো মানবিকতা।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে ডা. শামসুল আলম খান মিলন মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে গাড়ি ড্রাইভ করে তার সহধর্মিণী নিয়ে ক্যাম্পাসে আসেন। প্রধানমন্ত্রী ও তার সহধর্মিণী প্রথমে বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন এবং পরে জুবাইদা রহমানের স্মৃতিবিজড়িত কাজী ফজলুল হক মহিলা হোস্টেলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
১৯৪৬ সালের এই দিনে মাত্র ১০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজের যাত্রা শুরু হয়েছিল। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নে ডিএমসির ভূমিকা নিয়ে একটি মতবিনিময় সভাও অনুষ্ঠিত হয়।

স্মৃতিচারণ ও মানবিকতার আহ্বান
ঢামেক হাসপাতালকে শুধু অতীতের গৌরবের ধারাবাহিকতা হিসেবে নয়, বরং নতুন উদ্ভাবন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, গবেষণায় উৎকর্ষ এবং মানবিক নেতৃত্বের এক নতুন প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান জুবাইদা রহমান।
বক্তব্যের শুরুতে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জুবাইদা রহমান। এরপর তিনি তার ছাত্রজীবন ও ইন্টার্নিশিপের বিভিন্ন আবেগঘন স্মৃতি চারণ করেন।
তিনি অতীতে হাসপাতালের সিটি স্ক্যান মেশিন অকেজো থাকা, পেডিয়াট্রিক ওয়ার্ডে হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুর মৃত্যু কিংবা শয্যা সংকটে রোগীদের বারান্দায় থাকার অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে নিশ্চয়ই পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। চাকরি থেকে বরখাস্তের পর আর কখনো এখানে আসা হয়নি। তবে আমরা চাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হোক রোগীর জন্য এক অনন্য সেবাকেন্দ্র।’
ঢাকা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ মুসররাত সুলতানার সভাপতিত্বে উক্ত আলোচনা সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রতিমন্ত্রী এমএন মুহিত এবং ডিএমসি অধ্যক্ষ মো. মাজহারুল শাহীনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন।


