চট্টগ্রামে রেকর্ড বৃষ্টিপাত ও আকস্মিক বন্যায় জেলার মৎস্য খাতে ব্যাপক বিপর্যয় নেমে এসেছে। বন্যায় জেলার ১৫টি উপজেলার ১৫৩টি ইউনিয়নের কয়েক হাজার পুকুর ও শত শত মাছের ঘের প্লাবিত হয়ে বিপুল পরিমাণ মাছ ও চিংড়ি ভেসে গেছে।
প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, বন্যায় মাছ ও অবকাঠামো মিলিয়ে জেলাজুড়ে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০৯ কোটি ২৩ লাখ টাকায়।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের ১১ জুলাইয়ের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় চট্টগ্রাম জেলার মোট ১২ হাজার ২৫১টি পুকুর ও দিঘি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ৩২০টি মাছের ঘের বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে চাষ করা প্রায় ৪ হাজার ১০৬ দশমিক ৪৯ মেট্রিক টন বিভিন্ন প্রজাতির মাছ এবং ৫৭০ দশমিক ৫০ মেট্রিক টন চিংড়ি ভেসে গেছে। মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, কেবল মাছ ও চিংড়ি ভেসে যাওয়ার কারণেই আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১০৬ কোটি টাকার উপরে।
এছাড়া মৎস্য খাতের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির চিত্রও ভয়াবহ। পুকুর, ঘের ও স্লুইসগেট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রায় ৯৯ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এর বাইরে বন্যায় জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাতীয়, আঞ্চলিক ও জেলা মহাসড়ক মিলিয়ে মোট ২৪১ দশমিক ৩১ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের উপজেলাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মৎস্য সম্পদের ক্ষতি হয়েছে বাঁশখালীতে। এই উপজেলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। এছাড়া চন্দনাইশে ১৩ কোটি ১১ লাখ টাকা, সাতকানিয়ায় ১০ কোটি ৭৬ লাখ টাকা এবং লোহাগাড়ায় ৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকার মৎস্য সম্পদ নষ্ট হয়েছে। বাঁশখালী, লোহাগাড়া, সাতকানিয়া ও চন্দনাইশ উপজেলার অধিকাংশ এলাকা এখনও বন্যার পানিতে প্লাবিত থাকায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, বন্যার পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা কাজ করছেন। পানি নেমে গেলেই আমরা চূড়ান্ত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করব।’ ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষীদের সরকারিভাবে কোনো প্রণোদনা বা সহায়তা দেওয়া হলে তা এই তালিকার ভিত্তিতে বণ্টন করা হবে বলেও তিনি জানান।
বর্তমানে বন্যাকবলিত উপজেলাগুলোতে মাঠ পর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও ক্ষতিগ্রস্ত চাষীদের তালিকাভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মৎস্য বিভাগ আশা করছে, দ্রুত পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু করা গেলে চাষীরা এই বিশাল ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে পারবেন।


