দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। একাধিকবার ফল প্রকাশের তারিখ পরিবর্তন এবং ফল আগাম উন্মুক্ত হওয়ার বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এবারে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় বৃত্তি পেয়েছে ৭৯ হাজার ২৪৬ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ৩২ হাজার ৯৬৫ শিক্ষার্থী ট্যালেন্টপুলে এবং বাকি ৪৬ হাজার ২৮১ শিক্ষার্থী সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে।
রোববার দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের কনফারেন্স রুমে সংবাদ সম্মেলনে এ ফল ঘোষণা করা হয়। প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল উদ্বোধন করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
এ সময় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিনুল হক, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমীন এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক উপস্থিত ছিলেন।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর পরই প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ‘আইপিইএমআইএস’ অফিশিয়াল ওয়েবসাইট এবং মোবাইল এসএমএসের মাধ্যমে সবাই এই ফলাফল সংগ্রহ করতে পারবেন। শিক্ষার্থীরা তাদের রোল নম্বর, জেলা ও উপজেলার তথ্য ব্যবহার করে সহজেই পূর্ণাঙ্গ মার্কশিট দেখতে ও ডাউনলোড করতে পারবে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালা অনুযায়ী, গত বছর দেশজুড়ে মোট ৮২ হাজার ৫০০টি বৃত্তি প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়। এর মধ্যে ট্যালেন্টপুল বৃত্তি ৩৩ হাজারটি এবং সাধারণ বৃত্তি ৪৯ হাজার ৫০০টি। ট্যালেন্টপুলে সরকারি বিদ্যালয়ে ৮০ শতাংশ এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ে ২০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
সাধারণ বৃত্তির ৪৯ হাজার ৫০০টির মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩৯ হাজার ৬০০টি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক দুই জন ছেলে, দুইজন মেয়ে এবং একজন মেধাসহ মোট পাঁচটি করে বৃত্তি দেওয়া হয়। এ ছাড়া, বেসরকারি বিদ্যালয়ের জন্য উপজেলাভিত্তিক ২০ শতাংশ সাধারণ বৃত্তি রাখা হয়।
এবারের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় মোট ৭৮ হাজার ৮১০টি বিদ্যালয় অংশগ্রহণ করেছে, যার মধ্যে সরকারি বিদ্যালয় ৬৫ হাজার ৬০৫টি এবং বেসরকারি বিদ্যালয় ১৩ হাজার ২০৫টি।
২০২৫ এর প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় মোট ৮২ হাজার ২৪৬ টি ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ বৃত্তি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ট্যালেন্টপুলে মোট ৩২ হাজার ৯৬৫ জনের মধ্যে সরকারি বিদ্যালয় থেকে ২৬ হাজার ৩৭৫ জন এবং বেসরকারি বিদ্যালয় থেকে ৬ হাজার ৫৯০ জন বৃত্তি পেয়েছে।
এদিকে, সাধারণ বৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪৬ হাজার ২৮১ জন। যাদের মধ্যে সরকারি বিদ্যালয় থেকে ৩৬ হাজার ৪২০ জন এবং বেসরকারি বিদ্যালয় থেকে ৯ হাজার ৮৬১ জন বৃত্তি পেয়েছে। বৃত্তিপ্রাপ্ত মোট শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ৩৫ হাজার ৯৮২ জন যা মোট বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪৫ দশমিক ২৯ শতাংশ এবং ছাত্রী ৪৩ হাজার ৩৫৪ জন যা মোট বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীর ৫৪ দশমিক ৭১ শতাংশ।
বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ‘ট্যালেন্টপুল’ ও ‘সাধারণ গ্রেড’—এই দুই ভাগে আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়। ট্যালেন্টপুল বৃত্তিপ্রাপ্তরা প্রতি মাসে ৩০০ টাকা এবং সাধারণ গ্রেডে বৃত্তিপ্রাপ্তরা প্রতি মাসে ২২৫ টাকা করে পাবে।
এ ছাড়াও এককালীন অনুদান হিসেবে উভয় শ্রেণির বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা প্রতি বছর এককালীন ২২৫ টাকা করে অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা পাবে।


