বন্যায় পানিবন্দী মানুষের দুর্ভোগ না কমা পর্যন্ত খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসাসহ সব ধরনের সরকারি সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন।
তিনি বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর পুনর্বাসন ও ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো সংস্কারেও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
রোববার বিকালে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ঘুনিয়া আশ্রয়কেন্দ্রে বন্যাদুর্গত মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, পানিবন্দী মানুষের দুর্ভোগ না কমা পর্যন্ত যত ধরনের সহায়তা প্রয়োজন, সরকার তা নিশ্চিত করবে। এর জন্য যত বরাদ্দ প্রয়োজন হবে, সরকার সেই ব্যবস্থাও করবে। সরকারি সহায়তা থেকে কোনো দুর্গত মানুষ বাদ পড়বে না।
তিনি বলেন, সরকার শুধু তাৎক্ষণিক ত্রাণ কার্যক্রমেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সহায়তা এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো সংস্কারের বিষয়েও সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এর আগে প্রতিমন্ত্রী চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি পানিবন্দী মানুষের দুর্ভোগ সরেজমিনে দেখেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলে তাদের প্রয়োজন ও সমস্যার খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শন শেষে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ঘুনিয়া আশ্রয়কেন্দ্রে বন্যাদুর্গত মানুষের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন তিনি। এ সময় দুর্গতদের দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দিতে স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেন।
ত্রাণ বিতরণ ও পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান, চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ারসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
উল্লেখ্য, টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে কক্সবাজার জেলার চকরিয়াসহ বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে হাজারো পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে এবং অনেক মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছে। দুর্গত মানুষের জন্য প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি সংস্থার পক্ষ থেকেও ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।


