রাজধানীর উত্তরায় বাসায় কাজের কথা বলে এনে ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় মামলার পর অভিযুক্ত আব্দুল মান্নান (৬৫) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গত ৭ জুলাই উত্তরা হাউজ বিল্ডিং এলাকার একটি বস্তিতে মুদি দোকানের ভেতর এই ঘটনা ঘটে। চিকিৎসা ও শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য শনিবার বিকালে শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে।
হাসপাতালে শিশুটির মামা জানান, তাদের বাড়ি ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায়। শিশুটির বাবা রিকশাচালক এবং মা অন্যের বাসায় কাজ করেন। এক ভাই ও দুই বোনের মধ্যে শিশুটি মেজো। শিশুটির পাশের বাড়িটি হলো অভিযুক্ত মান্নানের শ্বশুরবাড়ি।
গত কোরবানির ঈদের কয়েকদিন পর মান্নানের শাশুড়ি বেদেনা বেগম পাশের বাড়ির ওই শিশুটিকে সঙ্গে নিয়ে উত্তরায় তার মেয়ের বাসায় বেড়াতে আসেন। এর কিছুদিন পর তিনি গ্রামে চলে গেলেও শিশুটিকে ঢাকায় রেখে যান। পরিবার মেয়ের কথা জানতে চাইলে তিনি তখন বলেন, তার মেয়ের বাসায় শিশুটিকে রেখে এসেছেন। সেখানে সে পড়ালেখা করবে এবং তার মেয় শিশুটির দেখাশোনা করবে।
তিনি আরও জানান, এরপর পরিবারের কেউ ঢাকায় এসে মেয়েকে দেখে যাননি, তবে মাঝে মাঝে ফোনে খোঁজখবর নিতেন। গত ৭ জুলাই ঢাকা থেকে ফোন করে পরিবারকে জানানো হয়, শিশুটি অসুস্থ। এরপর মান্নান ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী শিশুটিকে কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করান, তবে তার কী হয়েছে তা পরিবারকে জানাননি।
তখন শিশুটিকে গ্রামের বাড়িতে দিয়ে আসতে বললে ৮ জুলাই মান্নানের দ্বিতীয় স্ত্রী তাকে গ্রামে নিয়ে যান। এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে শিশুটির কাছে বিস্তারিত জানতে চাইলে সে জানায়, ওই রাতে মান্নান তাকে নিজের মুদিদোকানের ভেতর নিয়ে যৌন নির্যাতন করেছে এবং এরপর তার প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে।
এ বিষয়ে উত্তরা পূর্ব থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শামস মোহাম্মদ সাবিকুল ইসলাম জানান, বাসায় কাজের কথা বলে শিশুটিকে আব্দুল মান্নানের পরিবার তার গ্রাম থেকে নিয়ে এসেছিল।
গত ৭ জুলাই উত্তরায় হাউজ বিল্ডিং সংলগ্ন রেলগেটে নিজের মুদি দোকানে শিশুটিকে যৌন নির্যাতন করেন মান্নান। এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন এবং মামলায় মান্নানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শিশুটিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেলের ওসিসিতে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে, যোগ করেন তিনি ।


