কক্সবাজারের টেকনাফে প্রায় ৩০০ ফুট উঁচু পাহাড় থেকে পড়ে আহত সেই বন্য মা হাতিটিকে শেষ পর্যন্ত বাঁচানো গেল না। চিকিৎসকদের দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর রোববার সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাতিটির মৃত্যু হয়।
কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন দুপুরে টাইমস অব বাংলাদেশ-কে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর থেকেই আহত হাতিটির চিকিৎসা চলছিল। ডুলহাজারা সাফারি পার্কের বন্যপ্রাণী চিকিৎসক মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে একটি অভিজ্ঞ চিকিৎসক দল শনিবার রাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে চিকিৎসা শুরু করে। সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হলেও রোববার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাতিটির মৃত্যু হয়।’
তিনি আরও জানান, হাতিটি যেখানে পড়ে ছিল, সেখানে অসংখ্য বড় বড় পাথর রয়েছে। পাশাপাশি ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় মৃত্যুর পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। দুর্গম ও পাথুরে এলাকা হওয়ায় হাতিটির মরদেহ তাৎক্ষণিকভাবে সরানো সম্ভব হচ্ছে না। টেকনাফ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার নেতৃত্বে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে পাথুরে স্থান থেকে মরদেহটি সরিয়ে মাটিচাপা দেওয়া হবে।
এর আগে, টানা ভারী বর্ষণের মধ্যে শনিবার দুপুর ২ টার দিকে টেকনাফ পৌরসভার নাইট্যাংপাড়া ও সদর বনবিটের শিয়াল্যাঘোনা এলাকায় পাহাড় থেকে পড়ে আহত হয় হাতিটি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ভারী বৃষ্টিতে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে ধসে পড়ায় প্রায় ৩০০ ফুট উঁচু পাহাড় থেকে নিচে পড়ে গিয়ে হাতিটির পেছনের দুই পায়ে আঘাত লাগে। বুক ও পেটেও ক্ষত সৃষ্টি হয়। পরে হাতিটির চিকিৎসার জন্য বন বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা উদ্যোগ নেন। প্রাণীটির ক্ষতস্থানে সেলাই দেওয়াসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়।
হাতিটির আহত হওয়ার খবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছেও পৌঁছায়। শনিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, ঘটনাটি জানার পর প্রধানমন্ত্রী উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং আহত হাতিটির চিকিৎসা বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেন। হাতিটিকে সুস্থ করে তুলতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নিতেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর ডুলহাজারা সাফারি পার্কের বন্যপ্রাণী চিকিৎসক মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে চিকিৎসক দল ঘটনাস্থলে গিয়ে হাতিটিকে বাঁচানোর চেষ্টা চালান। বন বিভাগ, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন সমন্বিতভাবে বন্য প্রাণীটির চিকিৎসা ও সার্বিক পরিচর্যায় কাজ করলেও আহত হাতিটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।


