মালয়েশিয়ার জহুরবারু এলাকায় বোম্ব ক্রেনের চাপায় মো. শোয়াইব বিশ্বাস (২৩) নামের এক প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শুক্রবার একটি কনস্ট্রাকশন কোম্পানির অধীনে বোম্ব ক্রেনের সাহায্যে নির্মাণাধীন ভবনে ফায়ার ফাইটারের পাইপ লাগানোর কাজ করছিলেন তিনি।
শুক্রবার সন্ধ্যায় শোয়াইবের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন তার ভগ্নিপতি মো. তুহিন হাসান। শোয়াইব ফরিদপুরের সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মুরুটিয়া গ্রামের মো. শওকত বিশ্বাসের ছেলে। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সেজো। তার মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছে শোকাহত পরিবার।
নিহতের পরিবার জানায়, নিজের অভাবী পরিবারকে স্বাবলম্বী করার জন্য জীবিকার তাগিদে ২০২৩ সালে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে একটি কোম্পানিতে কাজ শুরু করেন শোয়াইব। সেখানে কাজ শেষে চলতি বছরের এপ্রিলে ছুটিতে বাড়িতে আসেন। বাড়ি আসার পর গত দুই মাস আগে বিয়ে করেন তিনি। এরপর ছুটি শেষে গত ১ জুলাই আবার মালয়েশিয়ায় ফিরে যান।
সেখানে জহুরবারু এলাকায় একটি কনস্ট্রাকশন কোম্পানিতে নির্মাণাধীন ভবনে ফায়ার ফাইটারের পানির পাইপ লাগানোর কাজ শুরু করেন। শুক্রবার সকালে কাজ করার সময় বোম্ব ক্রেনের নিচে চাপা পড়েন তিনি।
নিহতের ভগ্নিপতি তুহিন হাসান বলেন, ‘শুক্রবার দুপুরে মালয়েশিয়ার ওই কোম্পানির দায়িত্বরত এক বাংলাদেশি আমাকে ফোন করে নিহতের বিষয়টি জানান। তা ছাড়া ওই বাংলাদেশি ছবি ও ভিডিও পাঠিয়েছে, তাতে নির্মমভাবে মৃত্যুর বিষয় ফুটে উঠেছে। কোম্পানির পক্ষ থেকে তার মরদেহ ফেরত পাঠানোর জন্য তিন সপ্তাহের সময় চেয়েছেন। তবে মরদেহটি দ্রুত দেশে আনার জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি।’
ফরিদপুর প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারের সহকারী পরিচালক মো. আশিক সিদ্দিকী বলেন, নিহত ব্যক্তি কোনো কোম্পানির অধীনে কাজ করে থাকলে তারা দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে মরদেহ পাঠাতে পারবে। সেখান থেকে কোনো সহযোগিতা না পেলে নিহতের পরিবার আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বৈধকর্মী হয়ে থাকলে আমরা মরদেহ দেশে আনতে দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করব।


