কক্সবাজারে আবারও পাহাড় ধসে এক নারী নিহত হয়েছেন।শনিবার রাত ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত নারীর নাম রোজিনা বেগম (৪০)। তার স্বামীর নাম আব্দুল মজিদ। তারা পূর্ব কলাতলী ঝরঝরিপাড়ার বাসিন্দা।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রাতের খাবারের প্রস্তুতি নিতে পাহাড়ের পাশের রান্নাঘরে যেতেই ভারী বৃষ্টির মধ্যে পাহাড় ধসে পড়ে। এতে মজিদ সামান্য আহত হন এবং রোজিনা মাটিচাপা পড়েন। খবর পেয়ে দ্রুত উদ্ধার অভিযানে যোগ দেয় ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট। তাদেরকে সহযোগিতা করেন স্থানীয়রা। পরে কয়েক ঘন্টার চেষ্টায় রোজিনাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
টানা বৃষ্টিতে জেলার পাহাড়গুলো এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বারবার সতর্ক করা হলেও জীবিকার তাগিদে অনেকেই ঝুঁকিপূর্ণ বসতিতে ফিরে আসছেন, যা বাড়িয়ে দিচ্ছে পাহাড়ধস ও প্রাণহানির আশঙ্কা।
আব্দুল মজিদ বলেন, ‘আমি বারবার ওকে বলেছিলাম, পাহাড়ের পাশের রান্নাঘরে না যেতে। বলেছিলাম, বৃষ্টি বেশি, পাহাড় ধসে যেতে পারে। কিন্তু গ্যাসের সিলিন্ডার খুলতে রান্নাঘরে যেতেই মুহূর্তেই ধস নামে। আমি অল্পের জন্য বেঁচে গেলেও আমার স্ত্রী মাটিচাপা পড়ে মারা যায়। এর আগেও পাহাড়ের ওপরে থাকা বাড়ির লোকজনকে বলেছিলাম, যেন পানি না ফেলে এবং ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশগুলো কেটে ফেলে। কিন্তু কেউ কথা শোনেনি। ঘটনার সময় আমি ও স্ত্রী পেছনের ঘরে, আর বাবা ও আমার ছোট মেয়ে সামনের ঘরে ছিলেন।’
স্বজনদের দাবি, টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে পাহাড়টি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। তাদের অভিযোগ, পাহাড়ের ওপরে থাকা বাড়ির জন্য মাটি ভরাট করায় ধসের ঝুঁকি আরও বেড়েছিল। বারবার সতর্ক করলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। পাহাড়ধসের পর চিৎকার করেও সময়মতো সহযোগিতা মেলেনি। আর সেই ধসেই প্রাণ হারান রোজিনা বেগম।
মজিদের ভাই আব্দুল গফুর বলেন, ‘আমরা ১৯৯১ সাল থেকে এখানে বসবাস করছি। এতদিন কখনও পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু সম্প্রতি পাহাড়ের ওপরে বাড়ি নির্মাণের জন্য মাটি ভরাট করায় ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। আমরা বারবার সতর্ক করলেও কেউ ব্যবস্থা নেয়নি। অন্তত পাহাড় ঢেকে রাখার ব্যবস্থা করা হলে হয়তো ধস নামত না, এ দুর্ঘটনাও ঘটতো না।’
ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স কক্সবাজার কার্যালয়ের উপপরিচালক সৈয়দ মোরশেদ হোসাইন বলেন, ‘শনিবার রাতে কলাতলীর ঝরঝরিপাড়ায় পাহাড়ধসে একজন নারী মাটিচাপা পড়েছেন-এমন খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টার পর তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘টানা বৃষ্টির কারণে কক্সবাজারের পাহাড়গুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রতিনিয়ত পাহাড়ধসের আশঙ্কা থাকায় ফায়ার সার্ভিস নিয়মিত মাইকিং করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে আহ্বান জানাচ্ছে। কিন্তু সতর্কবার্তা সত্ত্বেও অনেকেই বিভিন্ন প্রয়োজনে আবারও ঝুঁকিপূর্ণ বসতিতে ফিরে আসছেন, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।’
টানা বৃষ্টির এই সময়ে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় কাউকে অবস্থান না করারও অনুরোধ জানান তিনি।


