কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীরকে (৫৮) কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
বুধবার রাতে নিজ বাড়ির সামনে হামলার শিকার হন তিনি। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, ঢাকা থেকে আসা ভাড়াটে খুনিরা এই হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছে।
গ্রেপ্তাররা হলেন বরগুনার হেলাল উদ্দিন (২৫), লক্ষ্মীপুরের মহিন উদ্দিন (৩২) ও শাকিল হোসেন ওরফে শাহীন (২৫)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে মিঠামইন বাজার থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন জাহাঙ্গীর। সঙ্গে ছিলেন বিএনপি কর্মী হাদিস মিয়া। বাড়ির সামনে পৌঁছালে তিন দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র দিয়ে জাহাঙ্গীরকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। বাধা দিলে হাদিস মিয়াকেও কুপিয়ে আহত করা হয়। স্থানীয়রা চাপাতিসহ হেলালকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরে করিমগঞ্জ উপজেলার বালিখোলা এলাকা থেকে অন্য দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গুরুতর আহত দুজনকে মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসক জাহাঙ্গীরকে মৃত ঘোষণা করেন। হাদিস মিয়া চিকিৎসাধীন।
কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, হত্যাকাণ্ডের কারণ ও পরিকল্পনাকারীদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে। জাহাঙ্গীরের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার জুমার নামাজের পর মিঠামইন হেলিপ্যাডে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হবে।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ মিয়ার অভিযোগ, প্রভাবশালী চক্র ভাড়াটে খুনি দিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
দলের প্রচার সম্পাদক আব্দুল আওয়াল ও নিহতের চাচা বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফরিদ আহমেদ জানান, আটক হেলাল ৫০ লাখ টাকার বিনিময়ে হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করেছে। তবে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কিছু জানায়নি।
উল্লেখ্য, ফেব্রুয়ারি মাসে বেড়িবাঁধের গাছ কাটার মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন জাহাঙ্গীর। এরপর তার দলীয় পদ স্থগিত করা হয়। গত ৫ জুলাই সেই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। এর ১১ দিনের মাথায় তিনি নিহত হলেন। বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত এ ঘটনায় মামলা হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, মামলা হওয়ার পর পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


