সাবেক স্পিকার ও প্রবীণ রাজনীতিক ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
রোববার ভোর ৪টা ১৮ মিনিটে শ্যামলীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। মৃত্যুকালে তিনি এক কন্যা নিলুফার জমির ও দুই ছেলে নওশাদ জমির ও নওফেল জমিরকে রেখে গেছেন। তার বড় ছেলে ব্যারিস্টার নওশাদ জমির বর্তমান সংসদে পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য।
১৯৩১ সালের ১ ডিসেম্বর পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার নয়াবাড়ি গ্রামে জমির উদ্দিন সরকারের জন্ম। তার বাবা মৌলভি মুহাম্মদ আজিজ বক্স। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টার-এট-ল সনদ লাভ করেন। ১৯৬০ সালের ২৭ মে তিনি আইন পেশায় যোগ দেন। তিনি সংবিধান, দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনে বিশেষজ্ঞ ছিলেন।
ছাত্রজীবনে বাম রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত জমির উদ্দিন সরকার ছাত্র ফেডারেশন, ছাত্র ইউনিয়ন ও ন্যাপ ভাসানীর হয়ে কাজ করেছেন। তিনি আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সহচর ছিলেন। পরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে যোগ দিয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য হন ও আমৃত্যু এই দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়া প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের গড়া জাতীয় গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
১৯৭৯ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত পাঁচবার জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে তিনি বাংলাদেশের প্রতিনিধি ছিলেন। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভায় গণপূর্ত ও গৃহায়ন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তিনি জাতীয় সংসদ ভবনের অসমাপ্ত কাজ শেষ করেন। এছাড়া বিচারপতি আবদুস সাত্তারের মন্ত্রিসভায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং ১৯৯১ সালে বেগম খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় ভূমি, শিক্ষা ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তি মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালে আইনমন্ত্রী থাকাকালে তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিল সংসদে উত্থাপন করেন।
অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা জমির উদ্দিন সরকার, ২০০২ সালের ২১ জুন থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি দিনাজপুর-১, ঢাকা-৯ ও পঞ্চগড়-১ আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। নবম সংসদে তিনি বগুড়া-৬ আসনের উপ-নির্বাচনে বিজয়ী হন।
বর্ণাঢ্য রাজনীতির পাশাপাশি তিনি ছিলেন লেখক ও শিক্ষানুরাগী। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘গণতন্ত্রের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ’, ‘লন্ডনে শিক্ষা জীবন’, ‘বাংলাদেশে গণতন্ত্রের উত্তরণ ও ডিগবাজি’, ‘ব্রিটিশ রাজ থেকে বঙ্গভবন’ ও ‘অষ্টম সংসদে স্পিকার’।
তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। শোকের ছায়া নেমে এসেছে রাজনৈতিক ও আইনাঙ্গনে। অনেকে তার ধানমন্ডির বাসভবনে শোক জানাতে ভিড় করছেন।


