যুবদল নেতা আরিফ সিকদার হত্যা মামলায় সুব্রত বাইনের মেয়ে খাদিজা ইয়াসমিনকে পাঁচ দিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত।
বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফারহা ফারজানা হকের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
এর আগে, পুলিশ তার বিরুদ্ধে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক মো. মাজহারুল ইসলাম খাদিজা ইয়াসমিনকে আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন করেন।
রিমান্ডের আবেদনে বলা হয়, শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন ওরফে ফাতেহ আলী এবং তার মেয়ে খাদিজা ইয়াসমিন রাজধানীর মগবাজার ও হাতিরঝিল এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছিলেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তারা যুবদল নেতা আরিফ সিকদারকে প্রতিপক্ষ হিসেবে চিহ্নিত করেন।
রিমান্ড আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, তাদের প্রত্যক্ষ প্ররোচনা ও পরিকল্পনার ফলেই আরিফ সিকদারকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় খাদিজা ইয়াসমিনের সম্পৃক্ততার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে।
মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তাকে রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন বলে দাবি করে পুলিশ।
এর আগে, গত মঙ্গলবার মামলার মূল নথি দায়রা আদালতে থাকায় খাদিজা ইয়াসমিনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিবুজ্জামান। একই সঙ্গে রিমান্ড শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করা হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, নিহত আরিফ সিকদার ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সহক্রীড়া সম্পাদক ছিলেন।
গত ১৯ এপ্রিল রাতে হাতিরঝিল থানাধীন নয়াটোলা মোড়ল গলির ‘দি ঝিল ক্যাফে’র সামনে তাকে গুলি করা হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১ এপ্রিল মারা যান তিনি।
এ ঘটনায় নিহতের বোন রিমা আক্তার বাদী হয়ে সুব্রত বাইনের সহযোগী মাহফুজুর রহমান বিপুসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে হাতিরঝিল থানায় হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করেন।
পরে আরিফ সিকদারের মৃত্যু হলে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়।


