বাংলাদেশের বর্ষীয়ান অভিনেতা আহমেদ শরীফ। কয়েক দশক ধরে বাংলা চলচ্চিত্রে যার অসামান্য অবদানের কথা না বললেই নয়। এবার সেই অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ নিউইয়র্ক বাংলা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের প্রথম আসরে তাকে দেওয়া হচ্ছে ‘আজীবন সন্মাননা।’
আগামী ২ আগস্ট নিউ ইয়র্কের জ্যামাইকা পারফর্মিং আর্টস সেন্টারে অনুষ্ঠিত উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলা চলচ্চিত্রে দীর্ঘ গৌরবময় ক্যারিয়ার, শক্তিশালী অভিনয় এবং দেশের চলচ্চিত্র শিল্পে তিনি যে স্থায়ী প্রভাব রেখে গেছেন তার স্বীকৃতি হিসেবেই তাকে এ সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম প্রথিতযশা ব্যক্তিত্ব আহমেদ শরীফ, খলনায়ক থেকে শুরু করে জটিল চরিত্রাভিনয়ে অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় দিয়ে দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। তার স্মরণীয় অভিনয় বাংলা চলচ্চিত্রকে সমৃদ্ধ করেছে এবং নতুন প্রজন্মের অভিনয়শিল্পীদের অনুপ্রাণিত করে চলেছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
উৎসব কর্তৃপক্ষের মতে, আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি ব্যক্তিত্বদের সম্মানিত করা এই উৎসবের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। একই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী দর্শকদের কাছে বাংলা চলচ্চিত্রকে তুলে ধরাও এ আয়োজনের গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ উৎসবে বাংলাদেশ এবং প্রবাসী বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের চলচ্চিত্র নির্মাতা, অভিনেতা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, গণমাধ্যমকর্মী এবং চলচ্চিত্রপ্রেমীরা অংশগ্রহণ করবেন।
৩০ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া তিন দিনব্যাপী এই উৎসবে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, প্রামাণ্যচিত্র এবং পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র—এই তিন বিভাগে বাংলা চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। এ ছাড়া প্রতিটি বিভাগে সেরা চলচ্চিত্রকে পুরস্কৃত করা হবে।
প্রথমবারের মতো আয়োজিত নিউইয়র্ক বাংলা ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল আন্তর্জাতিক দর্শকদের কাছে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকে আরও পরিচিত করে তোলার পাশাপাশি দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের বিশিষ্ট শিল্পীদের অবদানকে যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করছে।
আয়োজকদের আশা, আহমেদ শরীফকে এই সম্মাননা দেওয়া হলে তা, বাংলা চলচ্চিত্রের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


