আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয় পেতে কেমন হবে কৌশল, কিংবা নির্বাচনী ইশতেহার কেমন হওয়া উচিত; এসব বিষয়ে সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পরামর্শ নিয়েছে জামায়াত।
সোমবার রাতে ঢাকার চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক বৈঠকে এই কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে দলটি। অনুষ্ঠানের প্রথম পর্ব সাংবাদিকসহ সবার জন্য উন্মুক্ত থাকলেও শেষ পর্বের বৈঠক হয় বেশ গোপনে।
বৈঠকে অংশ নেওয়া দুইজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেছেন, অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে তাদের কাছে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান জানতে চান আগামী নির্বাচনের ইশহেতারে কোন কোন বিষয় আনলে দেশবাসী তা গ্রহণ করবে। পাশাপাশি মাঠের অবস্থা কেমন এবং জামায়াতের নির্বাচনী কৌশল কেমন হওয়া উচিত তা নিয়েও পরামর্শ চান তিনি।
এসময় অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা মুক্তিযোদ্ধা এবং নারী ইস্যুতে জামায়াতের ইতিবাচক অবস্থানের পাশাপাশি কর্মসংস্থান বাড়ানো, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং চলমান দুর্নীতি বিরোধী ক্যাম্পেইন অব্যাহত রাখার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠকে সবমিলিয়ে ১২০ জনের বেশি সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অংশ নেন।
অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসিনুর রহমান (বীর প্রতীক) বলেন, ‘গত চারটা নির্বাচনে আমরা কলঙ্কিত হয়েছি। জাতি হিসেবে আর কলঙ্কিত হতে চাই না আমরা। গত ৫৪ টা বছর বাটপারদের নির্বাচিত করেছি। এখন আমরা তাদের নেতৃত্ব মানব না। আমরা এতদিনে চিনতে পেরেছি, কারা আমাদের বন্ধু। আগামীদিনে যারা আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে থাকবে তাদের নেতৃত্ব আমরা চাই। আমরা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে চাই।’
আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘দেশবিরোধী এমন কোনো কাজ নেই যা আওয়ামী লীগ করেনি। তারা দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকেও কলঙ্কিত করেছে। কিন্তু তাদের মধ্যে কোনো অনুশোচনা নেই। আগামী নির্বাচনে যারাই ক্ষমতায় আসুক তাদেরকে দেশের উন্নয়নে অবশ্যই নারী সমাজকে গুরুত্ব দিতে হবে।’
অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মাহবুবল আলম বলেন, ‘আমরা আর আধিপত্যবাদী কারও কাছে বাংলাদেশের ক্ষমতা দিতে চাই না। আমরা আগামী দিনে ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে চাই। সেজন্য আমাদেরকে সামনে আসতে হবে। অবসরে গিয়ে আরাম আয়েশের জীবন যাপন করতে এদেশের মেহনতি মানুষের ইনকামের টাকায় আমরা বেতন ও পেনশনের টাকা নেইনি।’
দেশের মানুষের ঋণ শোধ করে দেশকে সত্যিকার অর্থে গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি।
অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল আব্দুল বাতেন বলেন, সব হত্যাকাণ্ডের বিচার হতে হবে। পাশাপাশি একটি সুন্দর নির্বাচন হতে হবে। যাতে করে নতুন কোনো স্বৈরাচার তৈরি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়ন করতে দেশপ্রেমিক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের এগিয়ে আসতেও আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্যে জামায়াত আমির শফিকুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে পশ্চিম পাকিস্তান ইনসাফের আচরণ করেনি। বিগত দিনগুলোয় স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা যায়নি, যা দুঃখজনক।’
আগের মতো কোনো বোঝাপড়ার নির্বাচন দেখতে চান না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যেখানে দল বিজয়ী হলো কিন্তু জাতি পরাজিত হলো, এটা আর দেখতে চাই না। এখান থেকে জাতির বিজয় দেখতে চাই।’
‘দেশে এমন একটি নির্বাচন চাই, যেখানে সকল নাগরিক স্বাচ্ছন্দ্য নিয়ে ভোট দিতে যাবে। তাহলেই নির্বাচন সুষ্ঠু হবে।’
প্রত্যেক বুথে সিসি ক্যামেরা চান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘এ ব্যাপারে সরকারকে দায়িত্বহীন দেখছি। আমরা জনগণের উপর গভীর আস্থাশীল। জনগণ যাকে চাইবে তাকে ভোট দেবে। কিন্তু সেই পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এখন পর্যন্ত সেটি হয়নি। এখনও ভয়ভীতি বিরাজমান।’


