ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোতে মাদকবিরোধী অভিযানে ৬৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে চারজন পুলিশ সদস্য।
গভর্নর ক্লাউডিও ক্যাস্ত্রো মঙ্গলবার এক ভিডিও বার্তায় জানান, অভিযানে ৬০ জন সন্দেহভাজন অপরাধীকে ‘অস্ত্রমুক্ত’করা হয়েছে। এছাড়া ৮১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই অভিযানে ২৫০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি বা তল্লাশি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা চাই রিও ডি জেনিরো এবং ব্রাজিল অপরাধমুক্ত হোক।’ এ অভিযান থেকে কোনওভাবেই পেছানো হবে না নিশ্চিত করে তিনি বলেন, ‘কারণ আমাদের বিশ্বাস জনসাধারণের নিরাপত্তা নিয়ে যত বেশি কাজ হবে আপনি এবং আপনার পরিবার তত বেশি মুক্ত থাকতে পারবেন।’
আলজাজিরার খবরে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার রাজ্যের উত্তরে পরিচালিত এ পুলিশি অভিযান এককভাবে সবচেয়ে বড় প্রাণঘাতী অভিযান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আগামী ১০ নভেম্বর ‘কপ৩০’ জলবায়ু সম্মেলন বসতে যাচ্ছে ব্রাজিলের বেলেম শহরে। আগামী সপ্তাহে ব্রাজিলে হতে যাচ্ছে ‘ওয়ার্ল্ড মেয়র সামিট’। তার ঠিক আগে আগে এই অভিযান আন্তর্জাতিক মহলে বেশ উদ্বেগ তৈরি করেছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, ‘অপারেশন কনটেইনমেন্ট’ নামে পরিচালিত এ সহিংস অভিযানকে কর্মকর্তারা তুলে ধরেছেন মাদক পাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে। প্রাথমিকভাবে এই অভিযানের মূল টার্গেট ছিল ‘কমান্ডো ভারমেলহো’ নামে একটি গ্যাং যারা ‘রেড কমান্ড’ নামেও পরিচিত।
সোশ্যাল মিডিয়া এক্সে গভর্নর ক্যাস্ত্রো লিখেছেন, কমান্ডো ভারমেলহোর অঞ্চল বিস্তার রোধ করে গ্রুপের প্রধানদের গ্রেপ্তারই ছিল অভিযানের লক্ষ্য। অভিযানে ২৫০০ কর্মকর্তা অংশ নেন বলে জানান ক্যাস্ত্রো। কয়েকজন সাঁজোয়া যান ও হেলিকপ্টারেও অংশ নেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের পর কোকেইন ব্যবহারে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ব্রাজিল। সরকারি তথ্য বলছে, ২০২৩ সালে ব্রাজিলে ১৮০ হাজারেরও বেশি কোকেইন পাচারের ঘটনা রেকর্ড হয়েছে এবং প্রায় ১৩০ হাজার কেজি কোকেইন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
তাই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্রাজিলে পুলিশি অভিযান নতুন কিছু নয়, তাতে অনেক প্রাণহানীও ঘটে। এর আগে ২০২৪ সালে রিওতে পুলিশি অভিযানে প্রায় ৭০০ জন নিহত হয়, বলা যায় গড়ে প্রতিদিন দুজনের মৃত্যু হয়।
তাছাড়া সবচেয়ে বেশি প্রাণহানীর ঘটনা ঘটেছিল ২০২১ সালে। জাকারেজিনহোতে চালানো ওই অভিযানে প্রাণ হারিয়েছিল ২৫ জন।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, বাড়িগুলোতে গুলির গর্ত হয়ে আছে আর রাস্তায় ছড়িয়ে আছে রক্ত। এ দৃশ্যই মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেখানকার এক সাংবাদিক জানিয়েছেন, ‘রক্তপাতের পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্বজনরা জানিয়েছেন, প্রায় ২০টি লাশ পাহাড়ে পড়ে আছে, যাদের তারা হাসপাতালে নিয়ে যেতে পারেননি।’
এত বড় পুলিশি অভিযানের বিশ্লেষণ দাবি করেছে আন্তর্জাতিক মহল।


