আকস্মিক বন্যা, দেশব্যাপী অতিবৃষ্টি ও দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি বিবেচনা করে চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষাসহ বিভিন্ন বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা সাময়িক স্থগিতের দাবি জানিয়েছে ছাত্রদল।
সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতি এই আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে ছাত্রদলের নেতারা বলেন, সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী দেশের সাতটি জেলায় বন্যায় ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে এবং ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিপুল ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি উপদ্রুত এলাকার অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখন আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় পরীক্ষার্থীদের পক্ষে কেন্দ্রে যাতায়াত করা ঝুঁকিপূর্ণ ও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
নেতারা উল্লেখ করেন, বন্যা কবলিত অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় পরীক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এই মুহূর্তে পরীক্ষা সাময়িক পিছিয়ে দিলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বস্তি নিশ্চিত হবে। দুর্যোগের কারণে অসংখ্য শিক্ষার্থীর বইখাতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। এই অবস্থায় পরীক্ষায় বসলে শিক্ষার্থীরা মনস্তাত্ত্বিকভাবে পিছিয়ে পড়বে, যা তাদের ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। দেশের একটি বিরাট অংশের পরীক্ষার্থীদের সংকটে রেখে পরীক্ষা চালু রাখলে মেধার সঠিক মূল্যায়ন বাধাগ্রস্ত হবে এবং সুযোগের সমতা নষ্ট হবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পরিস্থিতি অনুকূলে না আসা পর্যন্ত চলমান এইচএসসি পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে পরবর্তীতে নতুন সময়সূচী অনুযায়ী পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তের জন্য তারা শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছেন। একই সঙ্গে বন্যা কবলিত এলাকার পরীক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে মানবিক সহায়তা এবং স্থানীয় প্রশাসনের পাশে থেকে দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে ছাত্রদলের সব স্তরের নেতাকর্মীদের প্রতি জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


