খালেদা জিয়ার প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান ও মর্যাদা প্রদর্শনের লক্ষ্যে তিন দিনের শোক ঘোষণা করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)। মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
শোক পালনের অংশ হিসেবে অর্ধনমিত রাখা হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের সই করা বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, যথাযোগ্য ভাবগাম্ভীর্য রক্ষা করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান ও মর্যাদা প্রদর্শনের লক্ষ্যে মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরবর্তী কর্মসূচি দেওয়া হবে। এছাড়া, খালেদা জিয়ার বর্ণাঢ্য জীবন ও কর্মকে উপজীব্য করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক সেমিনার ও অন্য কর্মসূচি নেওয়া হবে।
সেই সঙ্গে মঙ্গলবার থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ- মসজিদুল জামিআ’সহ সব হল ও হোস্টেল এবং আবাসিক এলাকার মসজিদে খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় কোরআনখানি, দোয়া ও মোনাজাত করা হবে। অন্য ধর্মীয় উপসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা সভার আয়োজন করা হবে।
বুধবার বাদ জোহর মানিক মিয়া এভিনিউতে খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজায় অংশগ্রহণের সুবিধার্থে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত বিশেষ পরিবহনের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও জানানো হয় বিবৃতিতে।
এদিকে খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান।
এক শোকবাণীতে উপাচার্য বলেন, ‘খালেদা জিয়া দেশ ও জাতির কল্যাণে আজীবন কাজ করে গেছেন। গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তার নিরলস সংগ্রাম ও সাধনা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যুগ যুগ ধরে দিক নির্দেশনা দিবে। বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি দেশ ও জাতির সেবা করেছেন এবং সর্বদা সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। দেশ ও জাতির প্রতি তার অনন্য অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।’
মঙ্গলবার ভোর ৬টার দিকে রাজধানী ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান খালেদা জিয়া। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।


