এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নেওয়া হবে নাকি স্থগিত করা হবে সে বিষয়ে মঙ্গলবারই সিদ্ধান্ত জানাবে মন্ত্রণালয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক ফকির মাহমুদ নুরুজ্জামান বলেন, শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে বিকাল ৫টার মধ্যে সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রণালয়।
পরীক্ষা পেছানোর সম্ভাবনা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিবেচনা করা হবে যারা পরীক্ষায় উপস্থিত থাকতে পারেনি তাদের ব্যাপারে এবং প্রশ্নপত্র সহজ করার ব্যাপারে আলোচনা চলছে।
এসময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সরে যাওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।
তবে চট্টগ্রাম বোর্ডের পাঁচ জেলা ছাড়া দেশের বাকি ৫৯ জেলায় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিতের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না হওয়ায় নিয়মিত রুটিন অনুসারে পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা।
মঙ্গলবার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার বিষয়ে এক উচ্চ পর্যায়ের আলোচনা সভায় এই বিষয়ে মতামত দেন সংশ্লিষ্টরা। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সভাপতিত্বে দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও জেলা প্রশাসকরা ভার্চুয়ালি বৈঠকে অংশ নেন।
রুটিন অনুসারে বুধবার দেশের বাকি সব শিক্ষা বোর্ডে পদার্থ বিজ্ঞান, হিসাব বিজ্ঞান ও যুক্তিবিদ্যার দ্বিতীয় পত্র (তত্ত্বীয়) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
শিক্ষা বোর্ডের সচিব এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত আগেই দেওয়া হয়েছে। নতুন করে সারা দেশে পরীক্ষা স্থগিতের বিষয়ে শিক্ষা বোর্ডে কোনো নির্দেশনা আসেনি। তাই আমরা আগামীকালের পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
বন্যা পরিস্থিতির কারণে যে পাঁচ জেলায় পরীক্ষা স্থগিত থাকছে সেগুলো হলো-চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবান।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার ভারী বর্ষণ ও জলাবদ্ধতার কারণে কুমিল্লার সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার একটি ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়া আর কোনো কেন্দ্রে এখন আর কোনো সমস্যা নেই। তাই সারাদেশে একযোগে পরীক্ষা স্থগিত করার বিষয়ে কেউ মত দেননি।
এ বিষয়ে শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান সৈয়দ আখতারুজ্জামান টাইমসকে বলেন, ‘পরিস্থিতি বিবেচনায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত থাকছে। তবে সারা দেশে পরীক্ষা স্থগিত করার মতো পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি বলে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মতামত পাওয়া গেছে।’
এর আগে, অতি বৃষ্টি, বন্যা পরিস্থিতি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে ৮ জুলাই থেক চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন সব জেলায় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ৭ জুলাই মধ্যরাতে আন্তঃশিক্ষাবোর্ড সমন্বয় কমিটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এই সিদ্ধান্ত জানায়। পরবর্তীতে ১৬ জুলাই পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিতের কথা জানানো হয়।
বন্যা পরিস্থিতি এবং দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা নেওয়া এবং শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের জন্য মঙ্গলবার বিক্ষোভ সমাবেশ করে শিক্ষার্থীরা। সায়েন্স ল্যাবের মোড় থেকে তারা গিয়ে শিক্ষা বোর্ডের সামনে সড়ক অবরোধ করে। এসময় পুলিশের সঙ্গে তাদের হাতাহাতি হয়।


