খায়রুল হকের জামিন বহাল, মুক্তিতে বাধা নেই

খায়রুল হকের জামিন বহাল, মুক্তিতে বাধা নেই
সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক। ফাইল ফটো
Advertisement
Advertisement

হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে বনানী থানায় করা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ।

সোমবার জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হকের চেম্বার আদালত ‘নো অর্ডার’ দেয়। ফলে জামিন বহাল রয়েছে এবং খায়রুল হকের কারামুক্তিতে কোনো বাধা নেই বলে আইনজীবীরা জানান।

আদালতে খায়রুল হকের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহীন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দা সাজিয়া শারমিন।

হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে বনানী থানায় করা মামলায় ১০ আগস্ট খায়রুল হককে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেয় হাইকোর্ট। পৃথক আট মামলায় জামিনের পর বনানী থানার মামলায় খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখাতে গত ২ জুলাই আদালতে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। এ মামলায় ৮ জুলাই খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ২৭ জুলাই এই মামলায় নিম্ন আদালতে খায়রুল হকের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৯ আগস্ট হাইকোর্টে জামিন চেয়ে তিনি আবেদন করেন। আবেদনটির ওপরে শুনানি শেষে আদালত আদেশ দেয়।

আরও পড়ুন

ওই মামলার এজাহারের ভাষ্য, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট রাজধানীর মহাখালীর সেতু ভবনের সামনে আন্দোলনকারীরা অবস্থান করছিলেন। সেখান থেকে শাহবাগের দিকে যাওয়ার পথে তাদের ওপর হামলা, গুলিবর্ষণ, ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। এ সময় উজ্জ্বল মিয়াসহ ২৫ থেকে ৩০ জন আহত হন। এ ঘটনায় উজ্জ্বল মিয়া বনানী থানায় হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন।

খায়রুল হককে আসামি হিসেবে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া গ্রেপ্তার না দেখাতে ও হয়রানি না করতে নির্দেশনা দিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন নিষ্পত্তি করে আপিল বিভাগ। গত ৯ আগস্ট প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ এ আদেশ দেয়। ফলে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া বিচারপতি খায়রুল হককে গ্রেপ্তার না দেখাতে ও হয়রানি না করতে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ শুধু তার ক্ষেত্রে বহাল থাকছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।

এ বি এম খায়রুল হক ২০১০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর দেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান এবং একই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে তার নিয়োগ কার্যকর হয়। ২০১১ সালের ১৭ মে তিনি অবসরে যান। অবসরের পর তিনি তিন দফা আইন কমিশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। আওয়ামী লীগের সরকার পতনের পর ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট তিনি ওই পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

২০২৫ সালের ২৪ জুলাই ধানমন্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের হওয়া যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় সেদিন তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকেই তিনি কারাগারে আছেন। পরবর্তীতে তাকে কয়েকটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। হত্যা, হত্যাচেষ্টা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারবিষয়ক রায় জালিয়াতি এবং দুর্নীতির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad