কক্সবাজারের টেকনাফে কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যা মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযুক্ত হওয়ায় তৎকালীন র্যাব-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (বর্তমানে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল) মিফতাহ উদ্দিন আহমেদকে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাকে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সামি-উদ-দৌলা চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ বরিশাল সেনানিবাসের স্টেশন কমান্ডার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ঘোষিত নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তালিকায় সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদের পাশাপাশি তার নামও ছিল।
গত রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একরামুল হত্যা মামলায় অভিযোগ দাখিল করা হয়। মামলায় মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। এরই মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ওই পরোয়ানার ভিত্তিতেই মিফতাহ উদ্দিন আহমেদকে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্ধারিত তারিখে তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে।
মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, একরামুল হককে গুলি করে হত্যার সময় ঘটনাস্থলে মিফতাহ উদ্দিন আহমেদসহ অভিযুক্ত কয়েকজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ, সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি, কর্নেল (অব.) আনোয়ার লতিফ খান (তুষার), ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুব আলম (মিনু), মেজর (অব.) রুহুল আমিন (রাজন), স্কোয়াড্রন লিডার নাজমুস মাহমুদ (রাজু) এবং লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আশিকুর রহমান (সৈকত)।
অভিযুক্তদের মধ্যে আবদুর রহমান বদি, আনোয়ার লতিফ খান ও মাহবুব আলম অন্য মামলায় বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। ট্রাইব্যুনাল তাদের আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন।
২০১৮ সালের ২৬ মে রাতে কক্সবাজারের টেকনাফে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন একরামুল হক। তিনি টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ছিলেন। ওই ঘটনার একটি অডিও রেকর্ড প্রকাশ্যে এলে তা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
মেরিন ড্রাইভের নোয়াখালীপাড়া এলাকায় সংঘটিত ঘটনাটিকে সে সময় সরকারিভাবে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে নিহতের স্ত্রী আয়েশা বেগম দাবি করেন, তার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। ২০১৮ সালের ৩১ মে সংবাদ সম্মেলনে তিনি ঘটনার সময়ের কয়েকটি মোবাইল ফোনে ধারণ করা অডিও রেকর্ড প্রকাশ করেন।
অডিওতে অস্ত্রের ট্রিগার চাপার শব্দ, গুলির আওয়াজ এবং এক ব্যক্তির কাতরানোর শব্দ শোনা যায়। ওই রেকর্ড প্রকাশের পর ঘটনাটির সরকারি বর্ণনা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন ওঠে।
এ মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২৫ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।


