চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের মামলায় একমাত্র আসামি মনির হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
বুধবার বেলা ৩টায় চট্টগ্রাম মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফসা ঝুমা এই রায় ঘোষণা করেন। এর আগে দুপুর ২টা থেকে রায়ের অংশবিশেষ পড়া শুরু হয়।
আসামি মনির হোসেন (৩০) কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ঘারঘাটা এলাকার ছেলে। সে চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া এলাকার মিয়াখাননগরে বসবাস করত এবং স্থানীয় একটি ডেকোরেশন দোকানে কাজ করত। রায় ঘোষণার সময় আসামি ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন।
গত ২১ মে ধর্ষণের ঘটনার পর ৪ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বাকলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তানভীর আহমেদ। এরপর ৯ জুন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরু হয়। মাত্র আট কার্যদিবসে ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে ৮ দিনের মাথায় বুধবার এই রায় ঘোষণা করা হলো।
ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ বলেন, ‘রাষ্ট্রপক্ষ সাক্ষ্যপ্রমাণের মাধ্যমে আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। আমরা সর্বোচ্চ দণ্ড প্রত্যাশা করেছিলাম।’
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২১ মে বিকালে বাকলিয়া থানার নুর হোসেন চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় একটি গুদামকক্ষে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়। ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত মনিরকে আটকে রেখে গণপিটুনি দেওয়ার চেষ্টা করে এবং ‘বিসমিল্লাহ ম্যানশন’ নামের একটি ভবন অবরুদ্ধ করে রাখে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছুড়ে। ওই সময় বিক্ষুব্ধ জনতা চিৎকার করে বলতে থাকেন, ‘বাংলাদেশে বিচার নেই। ধর্ষককে আমাদের হাতে তুলে দেন, আমরাই তার বিচার করব।’ একপর্যায়ে পুলিশ অভিযুক্তকে জনরোষ থেকে বাঁচিয়ে থানায় নিয়ে যায়। এই ঘটনায় উত্তেজিত জনতা পুলিশের একটি গাড়িতেও অগ্নিসংযোগ করে।
পরদিন শুক্রবার শিশুটির বাবা বাদী হয়ে মামলা করলে আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। পুলিশি তদন্তে দ্রুততম সময়ে মেডিকেল রিপোর্ট ও প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে মাত্র সাত কার্যদিবসের মধ্যে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছিল।
এই রায়ের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে ন্যায়বিচার পাওয়ার একটি দৃষ্টান্ত স্থাপিত হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


