কোনো প্রতিষ্ঠানে ভর্তিরত কোনো শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়ে পরবর্তী ক্লাসে উঠলে, কোনো ভর্তি ফি গ্রহণ করা যাবে না। সম্প্রতি এমন একটি নীতিমালা জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ। সেখানে টিউশন ফি ও সেশন চার্জ আদায়ের লক্ষ্যে কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। এই কমিটির তত্ত্বাবধানে সকল প্রকার ফি ও টিউশন ফি আদায় করতে হবে। নীতিমালার লঙ্ঘন করা হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের এমপিও স্থগিতসহ কঠোর বিধান রাখা হয়েছে।
জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটা সার্কুলারে বলা হয়, বিদ্যালয় থেকে উত্তীর্ণ হয়ে পরবর্তী ক্লাসে উঠলে কোনো ভর্তি ফি নেওয়া যাবে না। কিন্তু এরপরও পুনর্ভর্তি ফি গ্রহণ বন্ধ না হওয়ায় গত ২৫ জানুয়ারি জনস্বার্থে বাংলাদেশ আইন ও অধিকার ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে পরিচালক সুজন মাহমুদ রিট করেন।
ইতোমধ্যে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের টিউশন ফি (বেতন), ভর্তি ফি, সেশন ফিসহ যাবতীয় আয় ব্যয়ের স্বচ্ছতার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি নীতিমালা প্রণয়ন করে। গত ৯ ফেব্রুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ সেটি প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন।
নীতিমালার ৫(ঙ) ধারায় বলা হয়, কোনো প্রতিষ্ঠানে ভর্তিরত কোনো শিক্ষার্থীর নিকট থেকে কোনোক্রমেই পুনর্ভর্তি ফি নেওয়া যাবে না। তবে বেসরকারি শিক্ষা প্রতি প্রতিষ্ঠানের (স্কুল, স্কুল অ্যান্ড কলেজ, উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ ও ডিগ্রি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক স্তর) টিউশন ফি নীতিমালা ২০২৪ অনুযায়ী টিউশন ফি গ্রহণ করা যাবে। নীতিমালার ১২ ধারায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যাবতীয় আয়ব্যয়ের জন্য একাধিক উপকমিটির বিধান রাখা হয়েছে।
১২ (৪) ধারায় টিউশন ফি ও সেশন চার্জ আদায় উপকমিটির বিধান রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান কর্তৃক প্রতিষ্ঠানের তিন জন্য সিনিয়র শিক্ষকের সমন্বয়ে টিউশন ফি ও সেশন চার্জ আদায় উপকমিটি প্রতি পঞ্জিকা বছরের জন্য গঠন করতে হবে। টিউশন ফি ও সেশন চার্জ আদায় উপকমিটির তত্ত্বাবধানে সকল প্রকার ফি ও টিউশন ফি আদায় করতে হবে। মাসিক প্রতিবেদন পরিচালনা কমিটি বরাবর দাখিল করতে হবে।
নীতিমালার ১৪ ধারায় বলা হয়, এই নীতিমালার কোনো অনুচ্ছেদের ব্যত্যয় ঘটলে প্রতিষ্ঠানের প্রধানসহ সংশ্লষ্ট শিক্ষক ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবেন এবং সেটি অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হবে। এরূপ অসদাচরণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধান বা শিক্ষকের বিরুদ্ধে বরখাস্তকরণ বা এমপিও স্থগিতকরণ বা অন্য কোনো শাস্তি আরোপ করা যাবে। এই বিধিমালা ব্যত্যয়ের ক্ষেত্রে ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিংবডি/অ্যাডহক কমিটি/পরিচালা কমিটি বাতিলসহ শান্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে।
রিটকারীর পক্ষের আইনজীবী সাইফুল হোসেন তপু টাইমসকে বলেন, আমরা যে প্রতিকারের জন্য রিট করেছিলাম, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালায় সেটি পূরণ হয়েছে। এ অবস্থায় আমাদের রিটের শুনানি করার দরকার নেই। আমরা চাই, এই নীতিমালা প্রতিপালন করা হোক।


