ঢাকার বস্তিতে পানিবন্দী কয়েক লাখ মানুষ

ঢাকার বস্তিতে পানিবন্দী কয়েক লাখ মানুষ
টানা বর্ষণে ঢাকার মোহাম্মদপুরে জলাবদ্ধতায় নাকাল জনজীবন। ছবি: সৈয়দ মাহামুদুর রহমান/ টাইমস
Advertisement
Advertisement

রাজধানী ঢাকায় দ্বিতীয় দিনের মতো টানা বর্ষণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় বিপাকে পড়েছেন কয়েক লাখ মানুষ। জলাবদ্ধতার কবলে ঘরবন্দী হয়ে পড়েছেন অনেকে।

সোমবার সকাল থেকে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে তীব্র যানজট তৈরি হয়েছে। ভারী বর্ষণে তলিয়ে গেছে রাজধানীর বিভিন্ন অলিগলি ও রাস্তা। বিশেষ করে বিপাকে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ। রাজধানীর প্রায় সব বস্তিতেই পানি ঢুকে পড়ায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কয়েক লাখ বাসিন্দাকে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য মতে, ঢাকায় তিন হাজার ৩৯৪টি বস্তিতে প্রায় ছয় লাখ ৪৬ হাজার নিবন্ধিত মানুষের বসবাস। তবে আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনিসেফের তথ্য মতে, সাম্প্রতিক গবেষণায় ঢাকায় বস্তিবাসীর প্রকৃত সংখ্যা ৪০ লাখেরও বেশি।

বুয়েটসহ বিভিন্ন সংস্থার জরিপ অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) এক হাজার ৬৩৯টি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) এক হাজার ৭৫৫টি বস্তি রয়েছে। এগুলোর মধ্যে কড়াইল বস্তি, মহাখালীর সাততলা বস্তি, মিরপুরের চলন্তিকা বস্তি, আদাবর বস্তি, বেগুনবাড়ি বস্তি, মোহাম্মদপুর বস্তি, ভাষানটেক বস্তি, ঝিলপাড় বস্তি, হাজারীবাগ বস্তি, কমলাপুর বস্তি, মেম্বার বস্তি ও কালাপানি বস্তি উল্লেখযোগ্য।

দুইদিনের টানা বর্ষণে এসব বস্তির প্রায় সব ঘর তুলিয়ে গেছে। যাদের ঘরে পানি উঠেছে, তাদের অনেকেই অবস্থান নিয়েছেন পাশের রাস্তায়।

বস্তির বাসিন্দাদের মধ্যে রিকশাচালকসহ বিভিন্ন পেশার নিম্ন আয়ের মানুষ রয়েছেন। নারীরা বাসা বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। অনেকে চাকরি করেন তৈরি পোশাক কারখানায়।

আরও পড়ুন

বৃষ্টিতে জমে থাকা নোংরা পানিতেই চলাচল করছে ছোট শিশুরা। ছবি: সৈয়দ মাহামুদুর রহমান/ টাইমস

ঢাকার মহাখালী, গুলশান এবং বনানী এলাকার মধ্যবর্তী স্থানে গুলশান-বনানী লেকের পাড় ঘেঁষে গড়ে উঠেছে কড়াইল বস্তি। প্রায় ১০০ একর জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা বস্তিটি ঢাকার সবচেয়ে বড় বস্তি হিসেবে পরিচিত। এখানে তিন লাখের বেশি মানুষের বসবাস।

জামাইবাজার ও বউবাজার-এই দুটি প্রধান অংশে বিভক্ত সেখানকার বাসিন্দারা। বৃষ্টিতে গুলশান লেক উপচে পড়ে পানি ঢুকেছে লোকালয়ে, সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা।

বস্তির একাধিক বাসিন্দা জানিয়েছেন, ভেতরে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে থাকায় পরিবার নিয়ে তাদের দাঁড়ানোরও জায়গা নেই। বিশেষ করে শিশুদের নিয়ে বাবা-মা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। এর ওপর আছে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট। দৈনন্দিন কাজে জড়িতরা উপায় না পেয়ে পাশের রাস্তায় ঘুরছেন সাহায্যের আশায়।

কড়াইল বস্তির বাসিন্দা রিকশাচালক রহমান জানান, তাদের বস্তিতে চলাচলের উপায় নেই। সবাই পানিবন্দী। এখনো সরকার কিংবা কর্তৃপক্ষের কেউ তাদের খবর নেয়নি।

ইট দিয়ে ঘরে পানি প্রবেশ ঠেকানোর চেষ্টা করেন অনেকে। ছবি: সৈয়দ মাহামুদুর রহমান/ টাইমস

সাততলা বস্তি, চলন্তিকা বস্তি, আদাবর বস্তি, বেগুনবাড়ি বস্তি, মোহাম্মদপুর বস্তি, ভাষানটেক বস্তি, ঝিলপাড় বস্তি, হাজারীবাগ বস্তি, কমলাপুর বস্তি, মেম্বার বস্তি ও কালাপানি বস্তিতেও দেখা যায় একই চিত্র।

বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ঘরের প্রায় সব মালামাল পানিতে ভিজে গেছে। খাবার ও পানির অভাব তো আছেই, চুলাও জ্বালানো যাচ্ছে না।

চলন্তিকা বস্তির জমিলা খাতুন জানান, চারদিকে পানির মধ্যে ছোট বাচ্চাদের নিয়ে কোথাও নিরাপদে থাকার জায়গা মিলছে না। রাস্তার পাশে পলিথিন টাঙ্গিয়ে মাথা গোঁজার ঠাই তৈরি করতে পারলেও খাবার ও পানি পাওয়া যাচ্ছে না। নুন আনতে পান্তা ফুরায় এমন মানুষদের জন্য অতিরিক্ত টাকা খরচ করে কিনে খাওয়ারও উপায় নেই।

ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৯৭ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটির বৃষ্টিপাতের শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী, এটি অতি ভারী বৃষ্টির মধ্যে পড়ে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর