আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা ও ভোট কার্যক্রমে ‘বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ ব্যক্তিদের’ দায়িত্ব না দিতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) অনুরোধ জানিয়েছে বিএনপি। নির্বাচনের আগে প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীতে ব্যাপক রদবদলের মাধ্যমে নিরপেক্ষ কর্মকর্তাদের নির্বাচনী কাজে যুক্ত করারও দাবি জানিয়েছে দলটি।
বৃহস্পতিবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মঈন খানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাতে এসব দাবি জানান। বিশেষ করে প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তা পদে কোনো দলীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের নিয়োগ দেওয়া থেকে বিরত রাখার আহ্বান জানান তিনি।
সিইসির সঙ্গে বৈঠক শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে আব্দুল মঈন খান বলেন, ‘নির্বাচন একটি বড় কর্মযোগ্য। শুধু পাঁচজন নির্বাচন কমিশনারের পক্ষে এই আয়োজন করা সম্ভব নয়। এজন্য বিশাল জনশক্তি প্রয়োজন যা নির্বাচন কমিশন মূলত সরকারের বিভিন্ন বিভাগ থেকে কয়েকদিনের জন্য ধার করে নিয়ে আসে। সংবিধান অনুযায়ী, ভোটের দিনগুলোতে ওই কর্মকর্তারা নিজ বিভাগের বদলে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন।’
এই বিএনপি নেতা জানান, তাদের হিসেবে সুষ্ঠুভাবে ভোট আয়োজনে কমপক্ষে ১০ লাখ জনশক্তি প্রয়োজন। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য কাদের নিয়োগ দেওয়া হবে সেই প্রশ্ন তুলে আব্দুল মঈন বলেন, ‘এর একটি বিশাল অংশ প্রশাসন, সিভিল সার্ভিস, পুলিশ বাহিনী এবং বিচার বিভাগ থেকে আনা হয়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য সামরিক বাহিনীর সহায়তাও আমরা কামনা করি।’
আইন অনুযায়ী, প্রশাসনের লোকেরা কোন রাজনৈতিক দলের সদস্য হতে পারেন না উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, গত ১৭ বছরে দেশের প্রশাসনিক বিভাগ রাজনীতিতে জড়িয়ে গেছে। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী সরকারের অধীনে গত তিনটি নির্বাচনকে ‘প্রহসনের নির্বাচন’ দাবি করে তিনি বলেন, ‘গত তিন নির্বাচনে কারা প্রহসন করেছিলেন? যারা সরকারি কর্মকর্তা হয়েও নির্বাচন কমিশনের পক্ষে নির্বাচন পরিচালনা করেছিলেন, তাদের রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে এ প্রহসন হয়েছিল। এই কথাটি আমরা গুরুত্ব দিয়ে বলেছি।’
নির্বাচন কমিশনকে পতিত আওয়ামী লীগের দোসরদের থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জনাইয়ে আব্দুল মঈন খান বলেন, ‘আমরা অনেকেই ভয় পাচ্ছি নির্বাচনের দিনে বিশৃঙ্খলা হবে। আমি বিশ্বাস করি, নিরপেক্ষ ভোটদানের মাধ্যমে দেশের জনগণ ১৫ বছর পর সঠিকভাবে তাদের অধিকার প্রয়োগ করবে। তারাও যখন গণতন্ত্রে বিশ্বাস করতে পারবে সেই মুহূর্তে নির্বাচন একটি উৎসবে পরিণত হবে। একমাত্র জনগণই সব ধরনের বিশৃঙ্খলা রুখে দিতে পারে।’
বিএনপি অন্য দলের সঙ্গে জোট গঠনের ক্ষেত্রে বিবেচনা করতে প্রস্তুত আছে জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, ‘গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জোট বা কোয়ালিশন একটি স্বীকৃত পন্থা। সারা বিশ্বেই এই প্রক্রিয়া চালু আছে। এক সময় আমরা জামায়াতের সঙ্গে জোট করেছি। কাজেই এটা কোন আশ্চর্যের বিষয় নয়। এটা নির্বাচনে প্রাক নির্বাচনী সমঝোতা হয়। কোয়ালিশন হয়। নির্বাচন পরবর্তী কোয়ালিশনও হয়ে থাকে।’


