বিগত সরকারের আমলে মডেল মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় এবং এতে কোনো দুর্নীতি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ।
সোমবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এক সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা জানান। ধর্মমন্ত্রীর পক্ষে এই প্রশ্নের উত্তর দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
প্রশ্নোত্তরের শুরুতে সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদিন ফারুক অভিযোগ করেন, ‘অতীতে মডেল মসজিদের নির্মাণ ব্যয় ১৩ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২১ কোটি টাকা করা হয়েছে। অনেক মসজিদ এখনই ভেঙে পড়ছে এবং সেনবাগের মডেল মসজিদে পানি পড়ার কারণে ঢোকা যায় না।’ তিনি এই ব্যয়ের বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা জানতে চান।
এ সময় ডেপুটি স্পিকারও তার নির্বাচনি এলাকা দুর্গাপুরের মডেল মসজিদের একটি চিত্র তুলে ধরে বলেন, ‘সেখানে মসজিদের সামনে বিশাল পুকুর থাকায় ভেতরে ঢুকতে ব্রিজ করতে হবে। মসজিদটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না এবং স্থানীয় মানুষ এর নাম দিয়েছে “তাজমহল”।’
উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বিগত আওয়ামী সরকারের সময়ে অর্থ লুটপাটের বিভিন্ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। ইসলামের নামে বা মসজিদের নামে যা করা হয়েছে, তা গর্হিত কাজ। মডেল মসজিদ ভালো উদ্যোগ হলেও এর নির্মাণ ব্যয় ও প্রাক্কলন যথাযথ ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের শ্বেতপত্রের বরাতে বলেন, মেগা প্রকল্পে দুর্নীতির জন্য মেগা বাজেট করা হয়েছিল। সময় বাড়ানোর পাশাপাশি প্রাক্কলিত ব্যয় কয়েকগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। ১৩ কোটি টাকা থেকে কীভাবে ২১ কোটি টাকা হলো, মোট কতটি মডেল মসজিদ হয়েছে এবং প্রকল্প ব্যয় কত ছিল, তা মসজিদওয়ারী তদন্ত করার জন্য আজই মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হবে।’ এর সঙ্গে সরকারি অন্যান্য সংস্থাও জড়িত হতে পারে বলে তিনি জানান।


