ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এলাকায় বহিরাগত নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে একাধিক প্রবেশমুখে কড়াকড়ি আরোপ করলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে ক্যাম্পাসের প্রবেশমুখগুলোতে বিএনসিসি, স্কাউট, প্রক্টরিয়াল টিম এবং বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সদস্যদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেলেও ভিড় বাড়তে পরিস্থিতি বেসামাল হয়ে ওঠে।
একপর্যায়ে দোয়েল চত্বর এলাকায় বহিরাগতরা চড়াও হলে একজন নারী বিএনসিসি সদস্যসহ প্রক্টরিয়াল কমিটির কয়েকজন আহত হন। এ সময় বহিরাগতদের মোটরসাইকেলের ধাক্কায় একজন শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে। দায়িত্বরতদের সঙ্গে বহিরাগত এলাকাবাসীর বাকবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটে।
এই ঘটনার পর ডাকসু সদস্য সর্ব মিত্র চাকমার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উপাচার্য (ভিসি) চত্বর সংলগ্ন স্ক্রিন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে মুহসীন হল মাঠ, হলপাড়া ও টিএসসি এলাকার স্ক্রিন বন্ধের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
এ বিষযে বিশ্ববিদ্যালযয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক মো. ইসরাফিল প্রাং বলেন, ‘আমরা কোনো উচ্ছৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি হোক, সেটা চাইনি। কোনো ধরনের ঝামেলা বা অশালীন কর্মকাণ্ড ঘটলে পরিস্থিতি আরও বিশৃঙ্খল হতে পারত। যারা এরই মধ্যে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছিলেন, তাদের শেষ পর্যন্ত থাকতে দিয়েছি। চাইলে পুলিশি ব্যবস্থা নেওয়া যেত, কিন্তু আমরা চেয়েছি উৎসবটি যেন সুন্দরভাবে শেষ হয়।’
তিনি টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, চত্বরে বড় পর্দায় খেলা প্রদর্শন বন্ধ করা হলেও ক্যাম্পাসের অন্যান্য স্থানে একই ধরনের ব্যবস্থা বন্ধ করার বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি প্রশাসনের বিবেচনায় রয়েছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে প্রক্টর বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সব সময় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। একই সঙ্গে উৎসবমুখর পরিবেশ ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থও বিবেচনায় রাখতে হয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজনের ক্ষেত্রে আরও আগে থেকে পরিকল্পনা করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


