কাতারের সেই মহাকাব্যিক ফাইনালের পর আবারও ফুটবল বিশ্ব বুঁদ হয়েছিল এক নতুন মহারণে। তবে এবার চিত্রনাট্য বদলে গেল সম্পূর্ণ নতুন এক গল্পে। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ৪৮ দলের এই বিশ্বযজ্ঞের ফাইনালে আর্জেন্টিনার হৃদয় ভেঙে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বসেরার মুকুট পরল স্পেন। স্প্যানিশদের এই একাধিপত্যের আসরে ব্যক্তিগত পুরস্কারেও ছিল তাদের জয়জয়কার। তবে ট্রফি হাতছাড়া হলেও ইতিহাসের পাতায় নতুন রেকর্ড লিখিয়েছেন ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে, আর খালি হাতেই ফিরতে হলো লিওনেল মেসিকে।
কোনো চোখধাঁধানো ড্রিবলিং বা অতিমানবীয় গোলের বন্যা ছিল না, কিন্তু পুরো টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন স্পেনের মাঝমাঠের মূল চালিকাশক্তি ছিলেন রদ্রি। বিশেষ করে সেমিফাইনালে ফ্রান্স এবং ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে তার নিয়ন্ত্রণ ও অতিমানবীয় পারফরম্যান্স স্পেনের প্রতিটি জয়ের সুতো বেঁধে দিয়েছিল। আর তাই ২০২৪ সালের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই মিডফিল্ডারের হাতেই উঠেছে আসরের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার গোল্ডেন বল।
অন্যদিকে ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে জিতেছেন গোল্ডেন বুট, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে টানা দ্বিতীয়বার এই পুরস্কার জয়ের অনন্য কীর্তি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে টানা দুবার গোল্ডেন বুট জেতার কীর্তি এমবাপ্পের আগে আর কারও ছিল না।

২০২২ কাতার বিশ্বকাপে মেসি জিতেছিলেন গোল্ডেন বল, আর এমবাপ্পে পেয়েছিলেন গোল্ডেন বুট। এবারও দুজনের ব্যক্তিগত লড়াই ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। তবে আর্জেন্টিনা রানার্সআপ হওয়ার পাশাপাশি গোল্ডেন বুটের দৌড়েও পিছিয়ে পড়েন লিওনেল মেসি। ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট নিয়ে তিনি জিতেছেন সিলভার বুট। এমবাপ্পে টুর্নামেন্ট শেষ করেছেন ১০ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট নিয়ে।
২২টি বিশ্বকাপ গোল নিয়ে এমবাপ্পে এখন বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ২১ গোল নিয়ে শেষ হয়েছে মেসির বিশ্বকাপ অধ্যায়। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল করে নিজের গোলসংখ্যা ১০-এ নিয়ে যান এমবাপ্পে, যা ১৯৭০ সালের পর এক আসরে সর্বোচ্চ গোলের কীর্তির পুনরাবৃত্তি। তবে এক বিশ্বকাপে সর্বাধিক ১৩ গোলের রেকর্ড এখনো ফ্রান্সের জুস্ত ফন্তেইনের দখলেই রয়েছে।
গোল্ডেন বুটের দৌড়ে তৃতীয় হয়েছেন ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহাম। তার গোল ৭টি, সঙ্গে ১টি অ্যাসিস্ট। সমান ৭ গোল করেও কম অ্যাসিস্ট থাকায় ব্রোঞ্জ বুট পাননি নরওয়ের আর্লিং হালান্ড।
স্পেনের বিশ্বজয়ের অন্যতম নায়ক ছিলেন গোলরক্ষক উনাই সিমন। পুরো টুর্নামেন্টে সাতটি ক্লিন শিট রেখে এবং মাত্র একটি গোল হজম করে তিনি জিতেছেন গোল্ডেন গ্লাভস। টানা ৬৪৯ মিনিট গোল না খেয়ে তিনি গড়েছেন নতুন বিশ্বকাপ রেকর্ডও।
সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছেন স্পেনের ১৯ বছর বয়সী ডিফেন্ডার পাউ কুবারসি। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে স্পেনের রক্ষণভাগে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে তিনি এই স্বীকৃতি অর্জন করেন।
এবারের ৪৮ দলের বিশ্বকাপে নতুন একটি রীতিরও সূচনা করেছে ফিফা। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনকে ট্রফির পাশাপাশি দেওয়া হয়েছে চ্যাম্পিয়নশিপ রিং। এ ছাড়া দলটি পেয়েছে ৫ কোটি মার্কিন ডলার প্রাইজমানি, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ।
এক নজরে বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ব্যক্তিগত পুরস্কার
গোল্ডেন বল (সেরা খেলোয়াড়): রদ্রি (স্পেন)
গোল্ডেন বুট (সর্বোচ্চ গোলদাতা): কিলিয়ান এমবাপ্পে (ফ্রান্স) – ১০ গোল
সিলভার বুট: লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা) – ৮ গোল
ব্রোঞ্জ বুট: জুড বেলিংহাম (ইংল্যান্ড) – ৭ গোল, ১ অ্যাসিস্ট
গোল্ডেন গ্লাভস (সেরা গোলরক্ষক): উনাই সিমন (স্পেন)
সেরা তরুণ খেলোয়াড়: পাউ কুবারসি (স্পেন)


