দুই বছরে চবিতে ১৮ শিক্ষার্থীর মৃত্যু

দুই বছরে চবিতে ১৮ শিক্ষার্থীর মৃত্যু
চবি। ছবি: বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট
Advertisement
Advertisement

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) গত দুই বছর দুই মাসে বিভিন্ন ঘটনায় ১৮ শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে পানিতে ডুবে আর পাঁচজন মারা গেছেন বিভিন্ন অসুস্থতায়। এছাড়া আন্দোলনে গুলিতে দুইজন, সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন, ঝুলন্ত অবস্থায় তিনজন এবং বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের মৃত্যুর ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করে দেখা যায়, পানিতে ডুবে ও অসুস্থতায় মৃত্যুই সংখ্যার দিক থেকে এগিয়ে। গত ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীদের মৃত্যুর এসব ঘটনা ঘটেছে।

এসব মৃত্যুতে জরুরি চিকিৎসা, পানিতে নিরাপত্তা, নিরাপদ যাতায়াত, বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা ও মানসিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।

প্রশ্ন উঠছে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাসেবার সক্ষমতা ও জরুরি চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ নিয়েও। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অসুস্থতার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে প্রয়োজনীয় সেবা ও দ্রুত উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা সবসময় পাওয়া যায় না।

বিশেষ করে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে কক্সবাজারে তিন শিক্ষার্থী সাগরে তলিয়ে যাওয়া এবং ২০২৬ সালে কাপ্তাই হ্রদ ও কর্ণফুলী নদীতে আরও দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু শিক্ষার্থীদের সাঁতার জানা ও পানিতে চলাচলের কৌশল সম্পর্কে সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে। চবিতে কেন্দ্রীয় সুইমিং পুল না থাকায় অনেক শিক্ষার্থীর সাঁতার শেখার সুযোগও নেই। ফলে সাগর, নদী ও হ্রদের স্রোত বুঝে চলা এবং স্রোতে পড়লে করণীয় সম্পর্কেও তাদের প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে।

অন্যদিকে, ঝুলন্ত অবস্থায় তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত সংকট মোকাবিলা এবং সংকটকালীন সহায়তার সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

পানিতে ডুবে মৃত্যু পাঁচজনের

দুই বছরে পানিতে ডুবে বা তলিয়ে পাঁচ শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন একই ঘটনায় কক্সবাজারের সমুদ্রে এবং দুজন রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদ ও কর্ণফুলী নদীতে তলিয়ে যান।

২০২৫ সালের ৮ জুলাই সকালে কক্সবাজারের হিমছড়ি সমুদ্রসৈকতে গোসল করতে গিয়ে পানিতে তলিয়ে মারা যান উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী কে এম সাদমান রহমান সাবাব। পরদিন ৯ জুলাই একই ঘটনায় নিখোঁজ থাকা আসিফ আহমেদের মরদেহ কক্সবাজারের সামিতিপাড়া সমুদ্রসৈকতে ভেসে ওঠে।

একই ঘটনায় তলিয়ে যান তাদের সহপাঠী অরিত্র হাসানও। তার মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

২০২৬ সালের ৯ জুন রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে ডুবে মারা যান আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. ইনতিশার হাসনাত। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে তিন বন্ধুকে নিয়ে রিজার্ভ বাজারের মায়াবী দ্বীপ এলাকায় পর্যটক নৌকায় ঘুরতে গিয়ে লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই পানিতে নামেন তিনি। পরে ডুবে গেলে বন্ধুরা ৯৯৯-এ ফোন করেন। ফায়ার সার্ভিস, টুরিস্ট পুলিশ ও ডুবুরি দল তাকে উদ্ধার করে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সবশেষ ২০ সেপ্টেম্বর কাপ্তাইয়ে কর্ণফুলী নদীতে নেমে স্রোতে ভেসে নিখোঁজ হন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাজিদ শাহারিয়ার সানাম। পরে বিকাল ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে পাথরঘাটা-সীতারঘাট এলাকায় তার মরদেহ উদ্ধার করে নৌবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শারীরিক শিক্ষা বিভাগের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. হাবিবুর রহমান জালাল বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের অবশ্যই সাঁতার শেখা উচিত। সাঁতার না জানলে নদী বা সাগরে না নামার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে সুইমিং পুল স্থাপনের জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন করা হয়েছে।’

অসুস্থতায় মৃত্যু পাঁচজনের

এই সময়ে বিভিন্ন অসুস্থতায় মারা গেছেন পরিসংখ্যান বিভাগের নাঈম নির্মা, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সানজিদা আক্তার, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের আরিফুল ইসলাম সাকিব, নৃবিজ্ঞান বিভাগের জীবক চাকমা এবং ইনস্টিটিউট অব এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চের অনিক চন্দ্র দাস।

২০২৪ সালের ২৫ অক্টোবর শ্বাসকষ্টে মারা যান পরিসংখ্যান বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের নাঈম নির্মা। চবির ২ নম্বর গেটসংলগ্ন একটি বাসার দ্বিতীয় তলায় থাকতেন তিনি। দুপুর দেড়টার দিকে শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দুইজনের সহযোগিতায় তাঁকে চবি মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগও ওঠে। নাঈমের বাড়ি নরসিংদীর মনোহরদীতে।

২০২৫ সালের ৯ জুলাই ভোর ৪টার দিকে যক্ষ্মায় মারা যান প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের সানজিদা আক্তার। ঢাকার নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। নড়াইলের লোহাগড়ার বড়দিয়া গ্রামের বাসিন্দা সানজিদা অনার্সে ৩ দশমিক ৪১ সিজিপিএ অর্জন করে ফিশারিজে মাস্টার্সে ভর্তি হয়েছিলেন। মৃত্যুর আগে ২৯ জুন তিনি গবেষণা প্রকল্পের শিরোনাম নির্বাচন করেছিলেন।

একই বছরের ২৪ অক্টোবর খেলতে গিয়ে অসুস্থ হওয়ার পর স্ট্রোকজনিত কারণে মারা যান আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের আরিফুল ইসলাম সাকিব। রাত ১০টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সহপাঠীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শারীরিক অসুস্থতার পাশাপাশি পারিবারিক মানসিক চাপও ছিল তার। খেলাধুলাপ্রিয় সাকিব অসুস্থতা নিয়েও ফুটবল খেলতেন। খেলার পরপরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং চিকিৎসকেরা প্রাথমিকভাবে মৃদু স্ট্রোকের কথা জানান।

আরও পড়ুন

২০২৬ সালের ১২ এপ্রিল হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা যান নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জীবক চাকমা। সহপাঠীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার ব্রেন স্ট্রোক হয়েছিল। প্রথমে তাকে চবি মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সবশেষ ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ২টা ৩০ মিনিটে ক্যানসারে মারা যান ইনস্টিটিউট অব এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের অনিক চন্দ্র দাস। প্রায় তিন বছর ধরে ক্যানসারের সঙ্গে লড়ছিলেন তিনি। দীর্ঘদিন ভারতে চিকিৎসা নেওয়ার পর সম্প্রতি দেশে ফিরে চাঁদপুরের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। অবস্থার অবনতি হলে তার মৃত্যু হয়।

ঝুলন্ত অবস্থায় তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যু

এই সময়ে ঝুলন্ত অবস্থায় মারা গেছেন অর্থনীতি বিভাগের তাজরিয়ান আহমেদ সোয়ারা, লাবিবা তানহা লামিয়া এবং আরবি বিভাগের ওমর ফারুক সুমন।

২০২৪ সালের ১ নভেম্বর অর্থনীতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের তাজরিয়ান আহমেদ সোয়ারার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হয়েছিল।

২০২৫ সালের ২৮ জুলাই চবি ল্যাবরেটরি স্কুলের সামনে একটি ভবনের চতুর্থ তলার ফ্ল্যাট থেকে অর্থনীতি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের লাবিবা তানহা লামিয়ার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি বাবা-মায়ের সঙ্গে সেখানে থাকতেন। তার গলায় ওড়না পেঁচানো ছিল এবং তা জানালার গ্রিলের সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায়। সকালে ঘর পরিষ্কার করতে গিয়ে তার মা মরদেহ দেখতে পান।

লাবিবা চবি ইউনিট ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সহপাঠীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কোটা আন্দোলনসহ বিভিন্ন আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। তবে তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

একই বছরের ৪ ডিসেম্বর রাতে নগরের খুলশী লেন-৫-এর একটি বাসা থেকে আরবি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ওমর ফারুক সুমনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সিলিং ফ্যানের হুকের সঙ্গে তার মরদেহ পাওয়া যায়।

মৃত্যুর আগে লেখা নোট ও ডায়েরির বক্তব্যের ভিত্তিতে পুলিশ প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যার ধারণা করে। তবে এসব ঘটনায় চূড়ান্ত কারণ নির্ধারণে তদন্ত ও ময়নাতদন্তের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মনোবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ আরাফাত আজিম বলেন, ‘সমাজ ও পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে না পারা, বিষণ্নতা, মাদকাসক্তি, সম্পর্কের টানাপোড়েন, ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং উদ্বেগ শিক্ষার্থীদের মানসিক সংকটকে বাড়িয়ে দিতে পারে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত মানসিক স্বাস্থ্য স্ক্রিনিং, সহজলভ্য কাউন্সেলিং এবং সংকটে থাকা শিক্ষার্থীদের দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকা জরুরি।’

পাশাপাশি মাদকবিরোধী সচেতনতা, খেলাধুলা ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

আন্দোলনে গুলিতে প্রাণ যায় দুই শিক্ষার্থীর

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলন ঘিরে গুলিতে প্রাণ হারান ইতিহাস বিভাগের দুই শিক্ষার্থী হৃদয় চন্দ্র তরুয়া ও মো. ফরহাদ হোসেন।

১৮ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় চট্টগ্রাম নগরের বহদ্দারহাট এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন ইতিহাস বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী হৃদয় চন্দ্র তরুয়া। পরে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৩ জুলাই তার মৃত্যু হয়।

এরপর ৪ আগস্ট এক দফার আন্দোলনের সময় মাগুরায় গুলিতে মারা যান ইতিহাস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. ফরহাদ হোসেন।

সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু দুইজনের

২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর বন্যার্তদের জন্য ত্রাণ নিয়ে যাওয়ার সময় সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফাহিম আহমাদ পলাশ। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে সকাল ৬টা ২০ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান ইতিহাস বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও চবি ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফ। এর আগে ৬ ডিসেম্বর রাত ১টার দিকে হাটহাজারীর মির্জাপুর ইউনিয়নের চারিয়াল-বুড়িপুকুরপাড় এলাকায় কাঠবোঝাই ‘চাঁদের গাড়ির’ ধাক্কায় গুরুতর আহত হন তিনি। একই ঘটনায় মোহাম্মদ ইমরান চৌধুরী নামের স্থানীয় এক ব্যক্তিও মারা যান।

বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু আরিফুলের

২০২৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর রাতে শহীদ আবদুর রব হলের গেটে ব্যানার লাগানোর সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম।

ব্যানার লাগানোর সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিচে পড়ে যান তিনি। প্রথমে তাকে চবি মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে এভারকেয়ার হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।

চিকিৎসাসেবা নিয়ে মেডিকেল সেন্টারের বক্তব্য

চিকিৎসাসেবা নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে চবি মেডিকেল সেন্টারের প্রধান চিকিৎসক আবু তৈয়ব বলেন, ‘মেডিকেল সেন্টারে বা পথিমধ্যে যথাযথ চিকিৎসার অভাবে কোনো শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়নি। অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রোগীরা মৃত অবস্থায়, ব্রেইন ডেথ বা অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় এসেছেন।’

তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের চিকিৎসাসেবা উন্নত করতে অ্যাম্বুলেন্স সেবা বাড়ানো ও নতুন অ্যাম্বুলেন্স সংযোজন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ব্যাংকের সহায়তায় আরও একটি অ্যাম্বুলেন্স যুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মেডিকেল সেন্টারের ল্যাবরেটরি উন্নত করা হয়েছে এবং দ্রুত রোগ নির্ণয়ে কুইক ইসিজি (ইসিজি) সেবা চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ডায়াবেটিস ও হৃদ্‌রোগজনিত সমস্যা দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ

শিক্ষার্থীদের মৃত্যুর কারণগুলো ভিন্ন হওয়ায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাও আলাদা হওয়া প্রয়োজন। অসুস্থতার ক্ষেত্রে চবি মেডিকেল সেন্টারের জরুরি চিকিৎসা ও দ্রুত রেফারেল ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা এবং গুরুতর রোগীকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি শিক্ষার্থীদের।

পানিতে ডুবে মৃত্যু ঠেকাতে শিক্ষার্থীদের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পানিতে নামার বিষয়ে সতর্ক করা, লাইফ জ্যাকেট ব্যবহারে সচেতনতা বাড়ানো এবং বিভিন্ন ভ্রমণ আয়োজনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তাবিষয়ক নির্দেশনা নিশ্চিত করার কথা বলেন জলনিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

ক্যাম্পাসে বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা এড়াতে নিয়মিত বৈদ্যুতিক সংযোগ ও স্থাপনা পরিদর্শন, ঝুঁকিপূর্ণ তার ও সংযোগ দ্রুত সংস্কার এবং ব্যানার, পোস্টার বা অন্যান্য কাজে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি শিক্ষার্থীদের।

একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের জন্য গোপনীয় কাউন্সেলিং, সহজে যোগাযোগযোগ্য মানসিক সহায়তা এবং জরুরি সংকটে দ্রুত সাড়া দেওয়ার ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রতিটি মৃত্যুর পর শুধু শোক প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ঘটনার কারণ ও প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা করে ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা কীভাবে এড়ানো যায়, সে বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোহাম্মদ আল্-ফোরকান বলেন, ‘শহীদ ফরহাদ হোসেন হলের পেছনের পুকুরকে সেন্ট্রাল সুইমিং পুল হিসেবে তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় মেডিকেল সেন্টারে কাউন্সিলিং সেন্টার আছে সেখানে একজন পরিচালকও নিয়োজিত আছেন।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad