সুরাইয়া তাছনিন সাথী এ বছর এইচএসসি পরীক্ষার্থী। এ বয়সে তিনি চমকে দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের অস্টিন শহরে গেল ১ ও ২ মে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘১৩তম আন্তর্জাতিক কানেক্টহার চলচ্চিত্র উৎসব’। এতে বিশ্বের ২৬টি দেশের ১৮৪টি চলচ্চিত্র অংশ নিয়েছে। সেখানে ‘ওমেন অ্যান্ড ওয়ার্ক’ ক্যাটাগরিতে সেরা পুরস্কার পেয়েছেন তার নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘রেশমা: অ্যা স্ট্রাগল ফর আইডেন্টিটি’-এর জন্য।
গাইবান্ধার আসাদুজ্জামান গার্লস হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের মানবিক বিভাগের এ শিক্ষার্থীর এটি প্রথম চলচ্চিত্র। নভেরা হাসান নিক্কণের অধীনে গাইবান্ধা সরকারী কলেজে চলচ্চিত্রবিষয়ক ওয়ার্কশপ করেছিলেন। সে সূত্রে ‘কানেক্টহার’-এর ফেলোশিপের মাধ্যমে তিনি চলচ্চিত্রের কারিগরি ও সৃজনশীল কৌশলগুলো রপ্ত করেন।
২ জুলাই থেকে শুরু হবে এইচএসসি পরীক্ষা। সাথী তাই এ মুহূর্তে ব্যস্ত পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে। সোমবার (৪ মে) বিকেলে যখন তার সঙ্গে পুরস্কারপ্রাপ্তি ও প্রামাণ্যচিত্রটির নেপথ্যের গল্প জানতে কল করা হয়, তখন তিনি কোচিংয়ে। সেখান থেকে তিনি জানান, এ প্রামাণ্যচিত্রটি বানানোর আগে প্রায় এক বছর তারা গবেষণা করেছেন। এতে তাকে সহায়তা করেছেন শুভ, মারুফ ও মিঠুরা।
তার নির্মিত প্রামাণ্যচিত্রটি সুরাইয়া ফারহানা রেশমাকে নিয়ে। যার জন্ম বগুড়া জেলার শেরপুরে। রেশমার জীবনসংগ্রাম, আত্মপরিচয় প্রতিষ্ঠার লড়াই, সমাজের সঙ্গে প্রতিনিয়ত টানাপোড়েন—সব মিলিয়ে এক গভীর মানবিক বয়ান তুলে ধরা হয়েছে পাঁচ মিনিটের প্রামাণ্যচিত্রে। এই ব্যক্তিগত গল্পই হয়ে উঠেছে বৃহত্তর নারীর সংগ্রামের প্রতীক।
এ গল্পটি বাছাইয়ের কারণ হিসেবে সাথী জানান, ‘কানেক্টহার’ প্রতিষ্ঠানটি মূলত নারী ও শিশুদেরকে নিয়ে কাজ করে। তাই একজন নারীর সংগ্রামের গল্পই বলার চেষ্টা করেছেন তিনি।
সাথীর এই যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তার মেন্টর নভেরা হাসান নিক্কণ। ফেলোশিপ চলাকালে তিনি শুধু প্রযুক্তিগত দিকই শেখাননি, গল্প বলার ভাষাটাও গড়ে দিয়েছেন। তার ভাষায়, ‘তার দিকনির্দেশনা না থাকলে আমি এতদূর আসতে পারতাম না।’ একই সঙ্গে তার বাবা-মাও তাকে সহায়তা করেছে বলে জানালেন। বিশেষ করে মা অনেক সহায়তা করেছেন।
তিনি জানান, ‘কানেক্টহার’ নারী উদ্যোগতাদের সহায়তার পাশাপাশি শিক্ষার্থী নির্মাতাদের চলচ্চিত্রকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরে। আরও একটি কাজ করে তারা, তরুণদের গল্প বলতে শিখিয়ে সামাজিক পরিবর্তনের অংশীদার করে তোলে।
সাথী জানান, পুরস্কার প্রাপ্তির বিষয়টি তিনি জানতে পারেন ৩ মে। জানার পর তার প্রতিক্রিয়া ছিল এমন, ‘আমি ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। যখন ফিল্ম ক্লাসে যোগ দিই, তখন ভাবিনি প্রথম ছবিতেই এমন কিছু হবে। এই এক বছরের পরিশ্রম আজ সার্থক মনে হচ্ছে। আমার মেন্টর এবং আমার মা—তাদের ছাড়া এটা সম্ভব ছিল না।’
প্রামাণ্যচিত্রটির সিনেমাটোগ্রাফিতে ছিলেন মিঠুন বর্মন ও মারুফ ভুঁইয়া। প্রডাকশন টিমে কাজ করেছেন আবু বকর সিদ্দিক (শুভ আকন্দ), আপন, আরিফ, সুস্মি সরকার ও অর্ঘ্য রায়। কারিগরি সহায়তা দিয়েছে ‘ধ্রুপদ কমিউনিকেশন’।
এই অর্জনের জন্য সাথী পেয়েছেন ২,৫০০ মার্কিন ডলার প্রাইজ মানি ও স্কলারশিপ। এই টাকা দিয়ে কী করবেন? তার পরিকল্পনা খুব পরিস্কার, ‘চলচ্চিত্র নির্মাণের যা যা লাগে কিনবো এবং সামনে আরও চলচ্চিত্র বানাবো।’


