বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির পুঁতে রাখা ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে এক বাংলাদেশি যুবকের পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
বুধবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
আহত শফিউল আলম (৩৫) ঘুমধুমের রেজু আমতলী এলাকার মোহাম্মদ কালুর ছেলে।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, বিকালে সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় নিজেদের কলাবাগানে কাজ করতে গিয়েছিলেন শফিউল। এ সময় হঠাৎ বিকট শব্দে একটি স্থলমাইন বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় তার একটি পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন অংশ ক্ষতবিক্ষত হয়। আশপাশের লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে উখিয়ার কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) জানিয়েছে, গর্জনবুনিয়া বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকার ৪১ নম্বর পিলার থেকে আনুমানিক ৪০০ মিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক জানান, ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে এক স্থানীয় ব্যক্তি আহত হওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ও বিজিবি বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এস খায়রুল আলমও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
সম্প্রতি নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে ল্যান্ডমাইন ও পরিত্যক্ত যুদ্ধাস্ত্র বিস্ফোরণের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। এর আগে গত ৯ জুন এখানে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে এক রোহিঙ্গা যুবক নিহত হন। তারও আগে ২ জুন পরিত্যক্ত মর্টার শেল বিস্ফোরণে এক তঞ্চঙ্গ্যা কিশোর এবং ২৪ মে স্থলমাইন বিস্ফোরণে তিন তঞ্চঙ্গ্যা নাগরিক নিহত হয়েছিলেন। একের পর এক এমন ঘটনায় সীমান্তজুড়ে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।


