জীবন, সংগ্রাম ও হতাশার বিপরীতে আশাবাদের গল্প উঠে এসেছে সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটির জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীদের আলোকচিত্র ও তথ্যচিত্রে। আলোকচিত্র ও তথ্যচিত্রসহ মিশ্র মাধ্যমে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী এক প্রদর্শনীতে নিজেদের কাজ তুলে ধরেছেন বিভাগের সাত শিক্ষার্থী।
বুধবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে প্রদর্শনীটির উদ্বোধন হয়। ‘স্লো জার্নালিজম: রিসার্চ অ্যান্ড স্টোরিটেলিং ইন ননফিকশন রাইটিং’ প্রকল্পের আওতায় গত আট মাস ধরে কাজ করেন শিক্ষার্থীরা। প্রকল্পের চূড়ান্ত পর্ব হিসেবে নিজেদের গবেষণা ও গল্পগুলো প্রদর্শনীর মাধ্যমে তুলে ধরেছেন তারা।
প্রদর্শনীতে জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের সাত শিক্ষার্থীর কাজ স্থান পেয়েছে। তারা হলেন—তাবাসসুম মনির জিনিয়া, ইয়ারুন নেসা সারা, ইসরাত জাহান হ্যাপী, হুমায়রা কবীর প্রাপ্তি, জুবাঈদা শারমিন, মোহাইমিনা খান ও রাহিমা নেসা স্নেহা।
উদ্বোধন শেষে প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটির উপাচার্য পারভীন হাসান, আলোকচিত্র সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী শহীদুল আলমসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
পারভীন হাসান বলেন, সাংবাদিকতা সমাজকে তুলে ধরার একটি বড় শক্তি। সাংবাদিকদের ভূমিকা দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে এ পেশায় দক্ষতার সঙ্গে নিজেদের গড়ে তুলবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, দৃকের সহযোগিতায় বড় পরিসরের এই কাজটি সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও প্রতিষ্ঠানটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে থাকবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।
আলোকচিত্রী ও দৃকের প্রতিষ্ঠাতা শহীদুল আলম শিক্ষার্থীদের কাজের প্রশংসা করে বলেন, তাদের কাজ পেশাদার মানের হয়েছে। এ ধরনের কাজ আরও বড় পরিসরে প্রদর্শিত হওয়া প্রয়োজন।
তিনি বলেন, শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের কাজের মধ্যে সম্ভাবনা দেখা গেছে। বড় প্রদর্শনীগুলোতে নারী সাংবাদিকদের প্রতিনিধিত্ব অনেক সময় কম থাকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে সেই জায়গাটি পূরণ করতে পারবেন।
জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও চেয়ারপার্সন সজীব সরকার বলেন, গণমাধ্যমে কে কার আগে খবর প্রকাশ করবে—এমন অসুস্থ প্রতিযোগিতা বেড়েছে। দ্রুত খবর দিতে গিয়ে সাংবাদিকতার মৌলিক নীতিমালা উপেক্ষিত হচ্ছে। তার মতে, ‘স্লো জার্নালিজম’-এর ধারণা নৈতিকতা ও মান বজায় রেখে গুরুত্বপূর্ণ খবর প্রকাশের সুযোগ তৈরি করবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ইলিয়াস আহমেদ বলেন, ছবি অনেক শব্দের চেয়েও বেশি কথা বলতে পারে। মানুষের মনে ছবি যে প্রভাব তৈরি করতে পারে, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধ ও বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনায় জনমত তৈরিতেও ছবির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
দৃক ট্রাস্টের সহযোগিতায় পরিচালিত ‘স্লো জার্নালিজম: রিসার্চ অ্যান্ড স্টোরিটেলিং ইন ননফিকশন রাইটিং’ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ।
প্রকল্পটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে দৃকের পক্ষে ছিলেন সায়দিয়া গুলরুখ ও সামিয়া রহমান প্রিমা। বিভাগের পক্ষে তত্ত্বাবধানে ছিলেন প্রভাষক কাজী নাফিয়া রহমান ও আশরাফুন নাহার। প্রদর্শনী আয়োজনের সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন দৃকের জেনারেল ম্যানেজার এএসএম রেজাউর রহমান।


