সংসদে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মূল্যস্ফীতি ও কর্মসংস্থান নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে গ্যাস ও বিদ্যুৎ প্রসঙ্গে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘দুষ্টু লোকে বলে টুকু আসে, টুকু যায়।’ এ সময় তিনি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সংকটের কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার, জ্বালানি নিয়ে কী আর বলব। গ্যাস আর বিদ্যুতের ব্যাপারে দুষ্টু লোকেরা বলে, টুকু আসে, টুকু যায়। এই আসে, এই যায়, কতক্ষণ থাকে তারা নাকি বুঝতে পারে না।’
রুমিন ফারহানা বলেন, একদিকে তেলের দাম বাড়ছে, অন্যদিকে বিদ্যুতের জন্য হাহাকার চলছে, আবার গ্যাসও পাওয়া যাচ্ছে না।
উল্লেখ্য, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, সরকারের অগ্রাধিকারের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং জ্বালানি খাতে নিশ্চয়তা দেওয়ার বিষয়গুলো ছিল।
তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কথা বলতে গেলে মুশকিল হলো, যিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আছেন, তিনি হয় ব্যঙ্গ অথবা বাকচাতুর্য দিয়ে বিষয়টি ঘুরিয়ে ফেলেন।’
রুমিন ফারহানা আরও বলেন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বললে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বাস্তব চিত্র জানা যায়।
তিনি কটাক্ষ করে বলেন, ‘বাংলাদেশে পররাষ্ট্রমন্ত্রী যেমন তিনজন আছেন, ৬৪ জেলায় ৬৪টি আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকলে মন্দ হতো না। বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এতই ভালো অবস্থা।’
সরকারের এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ তুলে রুমিন ফারহানা বলেন, সরকার ক্ষমতায় আসার পর ৬২ হাজার মানুষ চাকরি হারিয়েছেন এবং ৯০০-এর বেশি কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে।
তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘নতুন কর্মসংস্থান কি সৃষ্টি হবে? যাদের চাকরি আছে, তাদের চাকরি কতদিন থাকে—আল্লাহ মাবুদ জানে।’
রুমিন ফারহানা বলেন, বাজারে গিয়ে ৮০ টাকার নিচে কোনো সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। ডিমের দাম বেড়েছে, মিনিকেট চালের দামও বেড়েছে। অন্যদিকে টিসিবির পণ্য নিতে মানুষের দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।


