চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) তিনটি প্রকল্পের ফাইল স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণায়লয়ে পড়ে আছে বলে জানিয়েছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তার অভিযোগ, এই মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ চসিকের বিভিন্ন প্রকল্পের ফাইল বাসায় নিয়ে যান। আর একবার তার বাসায় ফাইল গেলে সেটির আর অনুমোদন পাওয়া যায় না বলেও অভিযোগ মেয়রের।
সোমবার চিটাগং ইন্ডিপেন্ডেট ইউনিভার্সিটি আয়োজিত পরিচ্ছন্নতা সচেতনতামূলক প্রচারাভিযানে অংশ নিয়ে এসব অভিযোগ করেন তিনি।
সিটি মেয়র বলেন, ‘উপদেষ্টা সাহেব যখন দেখেন যে এটা একটা প্রজেক্ট ফাইল। তখন সেটা আর মন্ত্রণালয়ে রাখেন না। তিনি সেগুলো বাসায় নিয়ে যান। আমি খুঁজতে খুঁজতে খুঁজতে খুঁজতে মিনিস্ট্রিতে…আমার ফাইল কই? বলে, ফাইল তো বাসায় নিয়ে গেছে। এখন বাসা থেকে ওটার আর পরে সিগনেচার হয় না। ওটা আর আসেও না।’
‘এখনো আমাদের তিনটা ফাইল এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ে পড়ে আছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে কোনো ফাইল গেলে সেটি আর অনুমোদন হয় না।’
বর্তমানে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে জানিয়ে মেয়র বলেন, ‘ফাইল আছে, সবই আছে। খুব চমৎকারভাবে উনারা বাসায় নিয়ে যান। মিনিস্ট্রি থেকে ফাইল গায়েব হয়ে যায়। এটা আমার গত ১১ মাসের অভিজ্ঞতা।’
আর উপদেষ্টা ফাইল বাসায় নিয়ে যাওয়ার কারণে যুক্তরাজ্য, জাপান এবং কোরিয়ার তিনটি প্রকল্পের কাজ শুরু করা যায়নি জানিয়ে শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘আজকে এগুলো যদি আমি অনেক দ্রুত পেতাম, তাহলে চট্টগ্রাম শহরকে অনেক সুন্দর করে দিতে পারতাম। এটা শুধু চট্টগ্রাম সিটির ব্যর্থতা নয়, এটা রাষ্ট্রের এবং সরকারের ব্যর্থতা।’
‘৪০০ কোটি টাকার আমার যে ইন্সট্রুমেন্টের প্রজেক্ট, সেটা ফিন্যান্স মিনিস্ট্রিতে গিয়ে হয়ে গেল ২৯৮ কোটি টাকা। প্রায় একশ কোটি টাকা কেটে দিল। কেটে দিয়ে সেখানে বলে দিল, আমাদের ১৬০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হবে ৫ শতাংশ সুদে। আমরা একটা সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান। শুধু ৬০ কোটি টাকা তারা আমাকে বরাদ্দ দেবে। বাকিটা সিটি করপোরেশনকে থেকে দিতে হবে!’
এতকিছুর পরেও সংশ্লিষ্ট ফাইলটি এখনো মন্ত্রণালয় থেকে নড়েনি জানিয়ে মেয়র বলেন, ‘আমি এখনো দৌড়াচ্ছি, প্রত্যেক মন্ত্রণালয়ে যাচ্ছি। প্রধান উপদেষ্টাকে বলেছি। আমি কোথায় যাব? এর ওপর আর কেউ আছে? উনি চট্টগ্রামের মানুষ। উনাকে বলেছি, উনার পিএসকে বারবার বলেছি যে, কাজটা করে দেন। আমার মেশিনারিজ খুব দরকার। আমার আসলে মেশিনারিজ নেই।’
‘যে যন্ত্রপাতিগুলো আছে সেগুলো ১৫-২০ বছরের পুরনো। গত সরকার একটা ড্রেনেজ সিস্টেম করতে গিয়ে ১৪ হাজার কোটি টাকার মত প্রায় খরচ করেছে। আর এটা যন্ত্রপাতি কেনার জন্য তিনশ কোটি টাকার খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্ট। কিন্তু সেখানে গিয়ে আমি ফেল করলাম।’
মেয়র বলেন, ‘আমি ব্যর্থ হলাম মানে রাষ্ট্র ব্যর্থ হলো। একদম স্ট্রেইট ফেল করল। একটা সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানকে দিতে কার্পণ্য করল।’
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যব।
তিনি বলেন, ‘আমাদের ফান্ডিং যা বরাদ্দ করা হয়েছে, আমার মনে হয় সেটা নেওয়া দরকার। কারণ সরকারের আনলিমিটেড রাজস্ব নেই। যেহেতু সরকারের রাজস্ব নেই, সরকার চাইলেই অনেক বেশি অর্থ কাউকে দিতে পারে না। আমরা সব মিনিস্ট্রি, ফিন্যান্স মিনিস্ট্রির সঙ্গে মারামারি করি। লিটারেলি মারামারি করছি। আমরা চাইলেই বাজেটটা পাই না। যেই বাজেটটা পাওয়া গেছে, যেহেতু মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশ, আপনাকে যদি ৫ শতাংশ দিয়ে থাকে তাহলে আপনি প্লিজ এই ফান্ডটা নেবেন এবং চট্টগ্রামের মানুষকে বঞ্চিত না করে এই ফান্ডটা দিয়ে কাজ শুরু করবেন।’
অনুষ্ঠানে সিআইইউ’র উপাচার্য অধ্যাপক এম এম নুরুল আবসার সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নুরুল করিম, চসিকের পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী।


