জুবায়ের তানিন, আবু ধাবি থেকে
বাংলাদেশ-শ্রীলংকার ম্যাচে্র প্রথম ইনিংস পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি উপভোগ কে করেছেন, বলতে পারেন? জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ডিজে। প্রতি বলে বলে মাতিয়ে রেখেছেন দর্শকদের। বাজিয়েছেন দুই দেশের গান। নাচিয়েছেন শনিবারে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার আগেই মাঠের গ্যালারি ভরিয়ে তোলা দর্শকদের। কখনো ‘বাংলাদেশ! বাংলাদেশ!’ স্লোগান আবার কখনো ‘শ্রীলংকা! শ্রীলংকা!’ স্লোগানে।
স্টেডিয়ামের মিউজিক, বাহারি গান তারা উপভোগ করেছেন নিঃসন্দেহে। কিন্তু যাদের ওপর সবচেয়ে বেশি আশা ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের, সেই ক্রিকেটাররাই সবচেয়ে বেশি হতাশ করেছেন তাদের। টপ অর্ডারের ব্যর্থতার দিনে শামীম হোসেন পাটোয়ারি আর জাকের আলী অনিকের ৮৬ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ৫ উইকেটে মান বাঁচানো ১৩৯ রান করেছে বাংলাদেশ।
ইনিংসে একমাত্র ছক্কা মারা শামীম শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ৩৪ বলে ৪২ রানে, সমান ৩৪ বল খেলা জাকেরের ব্যাট থেকে এসেছে ৪১* রান। এই দুজনের ইনিংস ছাড়া একমাত্র দুই অংকের ঘরে যেতে পেরেছেন লিটন দাস। ২৬ বলে ২৮ রান করেছেন বাংলাদেশ। আপনার মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে, শেষদিকে এত বড় একটা জুটির পরও কেন বাংলাদেশের রান ১৫০ পার হলো না? কারণগুলো একটু নিচে স্ক্রল করলেই পাবেন।
দলের রানের খাতা খোলার আগেই নেই দুই ওপেনার। প্রথম রান এসেছে ১৩টা ডট খেলার পর, প্রথম বাউন্ডারির জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে ৩০ বল, আর প্রথম ছক্কা এসেছে ১৯ নম্বর ওভারের প্রথম বলে। অথচ এই শ্রীলংকার সাথেই কদিন আগে একটা টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতে এসেছে বাংলাদেশ। ম্যাচের আগে তানজিম হাসান সাকিবও দলের হয়ে একতা বার্তা দিয়েছিলেন, কোনো চিন্তাভাবনা ছাড়াই তারা জয়ের জন্য মাঠে নামবেন। কিন্তু মাঠে নামার পর দেখতে হলো উল্টো চিত্র।
হংকংয়ের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচটা আবু ধাবির জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামের রি-ইউজড উইকেটে খেললেও শ্রীলংকার বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ পেল নতুন উইকেট। পিচ রিপোর্টে ধারাভাষ্যকার বাজিদ খানও বলছিলেন, টসে জিতলে এই উইকেটে পরে ব্যাট করাটাই উচিত। যেখানে টস হয়ে উঠতে পারে ভাইটাল। এই টস হারাটাই যেন দুর্গতি ডেকে আনল বাংলাদেশের।
টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারেই বোল্ড ওপেনার তানজিদ তামিম। নুয়ান থুসারার প্রথম পাঁচটা বল ঠেকিয়ে দিলেও শেষ বলের মুভমেন্টের সাথে আর পেরে ওঠেননি এই বাঁহাতি ওপেনার। লাইন মিস করে বোল্ড হয়েছেন রানের খাতা খোলার আগেই। এর নেপথ্যে মাঠের পূর্ব দিক থেকে বইতে থাকা জোরালো বাতাসেরও একটা অবদান আছে। উত্তর-দক্ষিণে গ্যালারি, বাকি দুই দিকেই খোলা। পরের ওভারে টিপিক্যাল আবু ধাবির উইকেটের এক্সট্রা বাউন্সে খাপ খাওয়াতে না পেরে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন পারভেজ ইমন। স্কোরকার্ডে প্রথম দুই ওভার শেষে বাংলাদেশের রান শূন্য, উইকেটের ঘরে দুই সংখ্যা।
৫৩ রানে পাঁচ উইকেট হারানোর পর লড়াই যা একটু করেছেন জাকের আলী অনিক আর শামীম হোসেন পাটোয়ারি। এর আগে লিটন দাস চেষ্টা করেছিলেন শুরু ধস সামলাতে। পাওয়ারপ্লের শেষ ওভারে দাসুন শানাকাকে মেরেছিলেন তিন চার। স্কোরবোর্ডে ফিরেছিল একটা ভদ্রস্ত চেহারা। কিন্তু দুই ওভার পরই ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গাকে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে কিপারে হাতে ক্যাচ দিয়ে বাংলাদেশের জীর্ণ চেহারাটা ফুটিয়ে তুলেছেন লিটন। এর আগে শেখ মাহেদীও ফিরেছেন হাসারাঙ্গার গুগলিতে।
এই হাসারাঙ্গাকে নিয়েই কথা হচ্ছিল হংকংয়ের বিপক্ষে ম্যাচের পর থেকে। কারণ বাংলাদেশের মিডল অর্ডারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিলেন এই লেগিই। ২০২৪ সাল থেকে মিডল ওভারে তার চেয়ে বেশি উইকেট নিতে পারেনি আর কোনো বোলার। হাসারাঙ্গার এই ভয়টা আর জয় করতে পারেনি বাংলাদেশ। চার ওভারে মাত্র ২৫ রান দিয়ে নিয়েছেন দুই উইকেট।
এর আগে চারে নামা তাওহিদ হৃদয়ের দিকে নজর ছিল সবার, কেমন করেন তিনি। একে অফ ফর্ম, এর ওপর ব্যাটিং এপ্রোচ আর ইনটেন্ট নিয়ে সমালোচনা। হৃদয় আগের ম্যাচে রান পেলেও আজ ব্যর্থ। মিড অফে ক্রস ব্যাটেড একটা শটে ক্যাচ তুলে একটা জীবন পেলেও পরের বলেই হয়েছেন রান আউট, তাও ডিপ স্কয়ার লেগ থেকে দুর্দান্ত এক থ্রোতে।


