দ্বৈত নাগরিকত্বের কারণে চট্টগ্রাম-৯ (চান্দগাঁও ও ডবলমুরিং) আসনের জামায়াত প্রার্থী এ কে এম ফজলুল হকের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে করা রিট পিটিশন তাকে বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেন।
রোববার রাতে টাইমস অব বাংলাদেশকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ফজলুল হকের আইনজীবী বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন করা হয়। এতে ফজলুল হককে বৈধ প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে।
এর আগে, গত ১২ জানুয়ারি আপিল শুনানির তৃতীয় দিনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী তার আপিল আবেদন নামঞ্জুর করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
দ্বৈত নাগরিকত্বের কারণে বাছাইয়ে জামায়াতের এই প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিলেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি ইসিতে আপিল করেন। আপিল শুনানি শেষে তার মনোনয়নপত্র অবৈধ বলে রায় দেয় ইসি।
পরে ফজলুল হক জানান, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগের জন্য আবেদন করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস তাকে দেখা করার সময়ও দিয়েছে। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। আপিলে তিনি বিষয়টি তুলে ধরেছেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশন তার আপিল নেয়নি।
গত ৪ জানুয়ারি দ্বৈত নাগরিকত্ব জটিলতায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন।
তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ছিলেন বলে জানান। গত ২৮ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন বলে হলফনামায় উল্লেখ করেন।
তবে ওই দিন মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, হলফনামায় দ্বৈত নাগরিকত্ব ত্যাগের কথা উল্লেখ করা হলেও তার সপক্ষে কোনো নথিপত্র দেওয়া হয়নি।
চিকিৎসক, রাজনীতিবিদ, উদোক্তা, শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক হিসেবে সুনাম অর্জন করা ফজলুল হক চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এদিকে, ফজলুল হকের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা হলে নগর জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দ উৎযাপন করতে দেখা গেছে। রোববার রাত ১০টার দিকে তাকে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।


