আওয়ামী লীগের লোকজনের হুমকি ও হয়রানির মুখে বাঁচতে চেয়ে থানার ভেতর নিজের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন মো. রমজান (৪০) নামের এক ব্যক্তি। পুলিশ জানায়, একরামপুর এলাকার হাবিবুর রহমানের ছেলে রমজানের বিরুদ্ধে বন্দর থানায় অন্তত সাতটি মাদকের মামলা রয়েছে।
বুধবার বিকালে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার ভেতর এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ সদস্যরা দ্রুত তাকে নিবৃত্ত করে হেফাজতে নেয় এবং গোসল করিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রমজান একটি প্লাস্টিকের বোতলে করে কেরোসিন এনে থানার ভেতর নিজের শরীরে ঢালছেন এবং তার অন্য হাতে একটি ম্যাচবক্স রয়েছে। এ সময় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জামাল উদ্দিনকে উদ্দেশ্য করে উত্তেজিত কণ্ঠে রমজান বলতে থাকেন, ‘ওসি স্যার, আমি না বাঁচতে পারি। আওয়ামী লীগের আমলে মাদক বেচছি। এখন কাউসার ভাইয়ের কারণে মাদক ছাইড়া ভালো হইয়া গেছি। আওয়ামী লীগের দোসররা এখনো আমাকে মাদক ব্যবসা ছাড়তে দিতে চায় না। আমি বাঁচতে চাইতেছি স্যার। আমি রিকশা চালাইয়া ভাত খাই এখন। আমার অপরাধ কী স্যার?’
তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের লোকেরা আমারে মাইরালাইতাছে স্যার। ওদের কাছে মইরা লাভ নাই স্যার, আমি আপনের থানার সামনে মরমু। আমি বাঁচতে চাই স্যার। আমার দুইটা সন্তান আছে।’ একপর্যায়ে ওসি তার কক্ষ থেকে বেরিয়ে এসে অন্য পুলিশ সদস্যদের সহযোগিতায় রমজানের হাত থেকে ম্যাচবক্সটি তার আয়ত্বে নেন।
বন্দর থানার ওসি মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন জানান, রমজান বর্তমানে হাসপাতালে পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসাধীন আছেন এবং তার সঙ্গে থাকা লোকজনের সঙ্গে মাদকের টাকা-পয়সা নিয়ে বিরোধের জেরে এই হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে তিনি প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছেন। ওসির দাবি, এটি মূলত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ এবং পুলিশের সঙ্গে তার কোনো বিরোধ নেই।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রমজানের স্ত্রী জানান, কয়েকদিন আগে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক সচিব ও মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউসার আশার নেতৃত্বে পুলিশ ও স্থানীয় ব্যক্তিদের সামনে রমজান মাদক ব্যবসা ছাড়ার অঙ্গীকার করেছিলেন। কিন্তু পুরোনো আওয়ামী আমলের মাদক বিক্রেতারা এখনো তার কাছ থেকে ভাগের টাকা দাবি করে হয়রানি করছে। বুধবার সকালে আদালত থেকে হাজিরা দিয়ে ফেরার পথেও তাকে হুমকি দেওয়া হলে ক্ষোভে তিনি এই কাণ্ড ঘটান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি নেতা আবুল কাউসার আশা বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধটা কঠিন। কোনো মাদক ব্যবসায়ী গায়ে আগুন দিল, না কি করল, সেটা আমার দেখার বিষয় না। আমি মনে করি তার বিরুদ্ধে অ্যাকশন নেওয়া উচিত এবং তাকে আইনের আওতায় আনা হোক।’
ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, রমজান সুস্থ হওয়ার পর এই বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


