ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে ইবোলা সংক্রমণ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। দেশটিতে নিশ্চিত ইবোলা রোগীর সংখ্যা ৫ হাজার ছাড়িয়েছে। সরকারি সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৫ হাজার ২১ জনের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে এবং মৃত্যু হয়েছে ২ হাজার ৩৭৮ জনের।
কঙ্গোর ১৭তম ইবোলা প্রাদুর্ভাবটি জুলাইয়ের শেষ দিকে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রাদুর্ভাবে পরিণত হয়। মৃত্যুর সংখ্যার দিক থেকেও এটি ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের আগের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবকে ছাড়িয়ে গেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, সংক্রমণ ও মৃত্যুর হিসাবে এটি বিশ্বে দ্বিতীয় ভয়াবহ ইবোলা প্রাদুর্ভাব; সবচেয়ে প্রাণঘাতী ছিল ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের পশ্চিম আফ্রিকার মহামারি।
বর্তমান প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী ইবোলার বিরল ‘বুন্দিবুগিও’ প্রজাতি। এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে এখনো অনুমোদিত কোনো টিকা বা চিকিৎসা নেই। কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলের ছয়টি প্রদেশে ভাইরাসটির সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। ইতুরি প্রদেশে এর টিকা নিয়ে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১০১ জনের সংক্রমণ শনাক্ত এবং ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ পর্যন্ত এক হাজারের বেশি রোগী সুস্থ হয়েছেন। হাসপাতালে ও আইসোলেশনে রয়েছেন প্রায় ৭৩০ জন।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, রোগ নিয়ন্ত্রণে নেওয়া উদ্যোগের তুলনায় ইবোলা ‘অস্বাভাবিক দ্রুত গতিতে’ ছড়িয়ে পড়ছে। ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, আগের সপ্তাহে এক সপ্তাহে সর্বোচ্চ ৫৭৯টি নতুন সংক্রমণ ও ৩০৪টি মৃত্যুর রেকর্ড হয়েছে।
ইবোলা মোকাবিলায় দুর্বল স্বাস্থ্য অবকাঠামো, স্থানীয় জনগণের অনাস্থা, রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত অস্থিরতা এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্দোলন বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক এলাকায় দুর্গম ও ভাঙাচোরা সড়কের কারণে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা আক্রান্তদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন না।
অন্যদিকে বেতন না পাওয়ায় কিছু স্বাস্থ্যকর্মী ধর্মঘটে রয়েছেন। বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর হুমকিও রয়েছে। দীর্ঘদিনের সংঘাত ও সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি ইবোলা নিয়ে নানা ধরনের ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, কঙ্গোর খনি শহর মংবওয়ালুতে ফেব্রুয়ারি থেকেই ভাইরাসটি ছড়াচ্ছিল। তবে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাদুর্ভাবের ঘোষণা দেয় ১৫ মে।
প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় জাতিসংঘও সহায়তা বাড়িয়েছে। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক প্রধান টম ফ্লেচার অতিরিক্ত ৩ কোটি ৫ লাখ ডলার বরাদ্দ এবং সম্মুখসারিতে আরও ২০ জন কর্মী মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছেন।
ফ্লেচার সতর্ক করে বলেন, ইবোলা প্রাদুর্ভাবটি একটি ‘সতর্কসংকেত’। ভাইরাসটি আরও ছড়িয়ে পড়ার আগেই দ্রুততা, ব্যাপকতা ও সমন্বিত উদ্যোগ নিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।


