শর্ত না মেনেই মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) উচ্চমান সহকারী (গ্রেড-১৩) পদে কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উচ্চমান সহকারী পদে আবেদনের ক্ষেত্রে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে প্রাতিষ্ঠানিক কাজে কমপক্ষে দুই বছরের অভিজ্ঞতা থাকার শর্ত উল্লেখ করা হয়।
নিয়োগসংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, মো. ফোরকান হোসেন তার অভিজ্ঞতা হিসেবে টাঙ্গাইলের ‘আদর্শ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সাবালিয়া’-তে সিনিয়র অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকারী হিসেবে দুই বছর এক মাস কাজ করার তথ্য দাখিল করেছেন। প্রতিষ্ঠানটির ইআইএন নম্বর ১১৪৭১৩।
কিন্তু নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, এই পদের জন্য সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাতিষ্ঠানিক কাজের অভিজ্ঞতার শর্ত থাকার কথা বলা হয়েছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আদর্শ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ একটি বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরিচালিত হলেও এটি সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান নয়।
এ কারণে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত অভিজ্ঞতার শর্তের সঙ্গে ফোরকান হোসেনের দাখিল করা অভিজ্ঞতা অতটা না মিললেও কীভাবে তার আবেদন গ্রহণ করা হলো, তিনি কীভাবে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেলেন এবং শেষ পর্যন্ত কীভাবে নিয়োগের জন্য সুপারিশ পেলেন-এসব বিষয় নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. ফোরকান হোসেন বলেন, ‘আমি নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করেছি। আদর্শ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রায় আড়াই বছর কাজ করেছি। এখন আপনারা যে বিষয়টি বললেন, সেটা কীভাবে হয়েছে, যারা আমাকে নিয়োগে সুপারিশ করেছেন, সেই প্রশাসন বলতে পারবে।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (দায়িত্বপ্রাপ্ত) সাজ্জাদ ওয়াহিদ টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘আপনার কাছে শুনলাম। এখন তথ্য যাচাই-বাছাই করে পরে বিস্তারিত জানাবো। এখন কিছু বলতে পারব না।’
ইতোপূর্বে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে শিক্ষক নিয়োগপ্রক্রিয়াতেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। টাইমসকে সেই সংবাদ বিস্তারিত প্রকাশ করার পর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন থেকে সেই বিষয়ে তদন্ত করার কথা জানানো হয়েছে।


