আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে সোমবার তেহরান সফর করবেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির।
রোববার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এ তথ্য জানান।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিয়েছে পাকিস্তান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল অতর্কিতে ইরানে হামলা করলে এই যুদ্ধ শুরু হয়। এরপর থেকে যুদ্ধ অবসানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা এগিয়ে নিতে কাজ করছে ইসলামাবাদ।
পাকিস্তান সরকারের দুটি সূত্র আলাদাভাবে সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের তেহরান সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। প্রথম সূত্র জানিয়েছে, ইরান ও পাকিস্তান আঞ্চলিক বিষয়গুলোতে সরাসরি যোগাযোগ রাখছে।
দ্বিতীয় সূত্র জানায়, এবারের আলোচনায় চলমান সংঘাতের সাম্প্রতিক ঘটনাবলি, বিশেষ করে ইরানের ওপর আরও কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে।
ওই সূত্রের ভাষায়, ‘তিনি (আসিম মুনির) ইসলামাবাদে হওয়া ওয়াশিংটন-তেহরান সমঝোতা স্মারকের আওতায় শান্তি, ট্রাম্পের হুমকি, পাকিস্তান-তুরস্ক-সৌদি আরব চুক্তির পরবর্তী পরিস্থিতি এবং হুথি ইস্যু নিয়ে ইরানের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন।’
এদিকে জেনারেল আসিম মুনির এমন এক সময়ে তেহরান সফরে যাচ্ছেন, যখন হরমুজ প্রণালির কর্তৃত্ব নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
ইরানের নেতৃত্বকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্য নিয়ে গত বুধবার ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর আর্থিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা আরোপ ও আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতার হুমকি দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানকে ‘যেকোনো ধরনের সহায়তা’ দেওয়া দেশের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও জানিয়েছেন, তেহরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত নতুন নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত তিনি সোমবার প্রকাশ করবেন। তিনি বলেন, ‘আমরা এই (ইরানের) শাসনব্যবস্থাকে ধসিয়ে দেব।’
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সোমবার ঘোষণা হতে যাওয়া এসব নিষেধাজ্ঞা হবে ইরানের বিরুদ্ধে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা’।
জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল আলী আবদোল্লাহি শুক্রবার এক বার্তায় বলেন, ‘ইরানকে কোণঠাসা করা হলে ইসলামি প্রজাতন্ত্রটি ব্যাপক ও চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়া দেখাবে।’
এদিকে হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহন কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। তেহরান জানিয়েছে, অনুমতি ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করা যেকোনো তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানো হতে পারে। এমনকি প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে ফি আরোপের খসড়াও সর্বোচ্চ নেতৃত্ব ও পার্লামেন্টে পাঠানোর অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান।


