চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) আরমান উদ্দিন ও তার ভাই আরিফ উদ্দিনসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, দোকান থেকে মালামাল লুট, হামলা ও হত্যার হুমকির অভিযোগে আদালতে মামলা হয়েছে।
রোববার চট্টগ্রাম চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন লোহাগাড়ার পশ্চিম কলাউজান এলাকার বাসিন্দা আমির হোসেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী আদনান কবির জিলান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে নিকটস্থ সার্কেল অফিসারকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলায় আরমান উদ্দিন ছাড়াও তার ভাই আরিফ উদ্দিন (৩৭), লোহাগাড়ার শওকত আলী (৪২), আদিল (৩২), আনোয়ার (২৮) ও জয়নাল আবেদীনকে (৩৩) আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, লোহাগাড়ার আজিজ কমপ্লেক্সে বাদীর চারতলা একটি ভবন রয়েছে। ২০০৬-২০০৭ সালের দিকে নিজের কেনা জমিতে তিনি ভবনটি নির্মাণ করেন। ভবনের নিচতলায় একটি আলমারির দোকান এবং অন্য অংশে বসতঘর ভাড়া দেওয়া হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, কিছুদিন ধরে আরমান উদ্দিনের নেতৃত্বে তার ভাই আরিফ উদ্দিনসহ অন্যরা বাদীর কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা না দিলে ঘর ও মার্কেট দখল করে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। আসামিরা বাদীকে ভিন্ন এলাকা থেকে এসে তাদের এলাকায় বসবাস করার কারণেও চাঁদা দিতে বলেন।
বাদীর অভিযোগ, গত ৩ এপ্রিল রাত আনুমানিক ২টার দিকে আরমান উদ্দিন মোবাইল ফোনে তার কাছে আবারও ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। বাদী টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তার ঘর দখল করে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
এরপর ওই রাতেই আসামিরা আজিজ কমপ্লেক্সের নিচতলায় বাদীর ভাড়াটিয়া ওবায়দুলের আলমারির দোকানের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। সেখান থেকে বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়। যার আনুমানিক মূল্য ১১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫৯ টাকা। এ ছাড়া দোকানের একটি ক্যাশ টেবিল, যার ভেতরে নগদ এক লাখ ২০ হাজার টাকা ছিল, সেটিও নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে দোকানে নতুন তালা লাগিয়ে দেন আসামিরা।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ভবনের ওপরের তলার ভাড়াটিয়াদের কাছে গিয়ে ভবিষ্যতে যেন বাসাগুলো তাদের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়, সে কথাও বলেন আসামিরা।
ঘটনার সময় বাদী দেশের বাইরে ছিলেন। দেশে ফিরে তিনি বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। পরে গত ২০ আগস্ট সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে বৈঠকের কথা বলে আসামিরা বাদীর ভবনে বসেন। সেখানে আরিফ উদ্দিন আবারও ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে দোকান ও ঘরের দখল ছেড়ে দেবেন না বলে জানান।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, আরমান উদ্দিন মোবাইল ফোনে বাদীকে বলেন, তার এলাকায় বসবাস করতে হলে তাদের কথামতো চলতে হবে। চাঁদা না দিলে বাদীকে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলার হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। আরিফ উদ্দিন, শওকত আলী, আরমান উদ্দিন ও আদিল বাদীকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। এতে বাদী শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পান।
আরও বলা হয়েছে, দ্বিতীয় দফার ঘটনার পর বাদী লোহাগাড়া থানায় গিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। পুলিশ মামলা নেওয়ার কথা বলে ঘটনাস্থলেও যায়। তবে পরে মামলা না নেওয়ায় তিনি আদালতের শরণাপন্ন হতে বাধ্য হন।
মামলার অভিযোগের বিষয়ে জানতে আরমান উদ্দিনকে ফোন কার হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এদিকে মামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাননি বলে জানিয়েছেন সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী। তিনি বলেন, চিঠি পাওয়ার পর অভিযোগগুলো তদন্ত শেষে সত্যতা যাচাই এবং আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমের মাধ্যমে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।


