মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে ২ বছর লাগবে: অর্থমন্ত্রী

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে ২ বছর লাগবে: অর্থমন্ত্রী
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
Advertisement
Advertisement

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ধাক্কা কাটিয়ে উঠে দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে দুই বছর সময় লাগতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে তেল-গ্যাস খাতে সরকারের প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা বাড়তি ব্যয় হয়েছে । পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আগের সরকারের রেখে যাওয়া ৫০ হাজার কোটি টাকার বকেয়া পরিশোধ করতে হচ্ছে।’

শনিবার সকালে চট্টগ্রাম মা ও শিশু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসেবা দেশের প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। সরকার এখন প্রিভেন্টিভ ও প্রাইমারি হেলথকেয়ারকে গুরুত্ব দিচ্ছে। দরিদ্র জনগোষ্ঠী যাতে উন্নত চিকিৎসা পায়, সে জন্য বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

‘সরকারি হাসপাতালের সীমাবদ্ধতার কারণে রোগীদের বেসরকারি হাসপাতালে পাঠিয়ে চিকিৎসার বিল সরকার বহন করার পরিকল্পনা নিয়েছে। এতে স্বাস্থ্যখাতে বাজেট বাড়ানো হবে। একইসঙ্গে বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে’, যোগ করেন আমির খসরু।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘অতীতে স্বাস্থ্যখাতে বিপুল বরাদ্দ দেওয়া হলেও তার বড় অংশ দুর্নীতির মাধ্যমে অপচয় হয়েছে। সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা পায়নি। শুধু বড় বড় ভবন বানালে হবে না। এটি যারা পরিচালনা করবে তাদের সততা ও দায়িত্ববোধ থাকতে হবে। তা না হলে জনগণ কোনো সুফল পাবে না।’

আরও পড়ুন

তবে সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ভালো পারফরম্যান্স করা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকার সহযোগিতা করার চেষ্টা করবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

চট্টগ্রাম মা ও শিশু মেডিকেল কলেজের নতুন ভবনের নকশা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এত বড় মেডিকেল কলেজে মাত্র ৭২টি গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। এতে ভবিষ্যতে পুরো এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হতে পারে।’

তিনি পরামর্শ দেন, অন্তত ২০০ থেকে ২৫০ গাড়ির পার্কিং সুবিধা রাখতে হবে। প্রয়োজনে আরও বেসমেন্ট নির্মাণের কথাও জানান আমির খসরু।

মেডিকেল শিক্ষা আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডিজিটাল লাইব্রেরি, মাল্টিমিডিয়া সমৃদ্ধ ক্লাসরুম, ইনডোর-আউটডোর খেলাধুলা ও মানসম্মত ক্যান্টিন সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।’

দেশে মেডিকেল টেকনোলজিস্টের সংকটের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘দক্ষ টেকনোলজিস্টের অভাবে কোটি কোটি টাকার চিকিৎসা যন্ত্রপাতি অব্যবহৃত পড়ে আছে।’

মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের জন্য আলাদা ইনস্টিটিউট গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ’এ খাতে বিদেশেও ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে।’

মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থী আসন বাড়ানোর প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ‘শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত, ফ্যাকাল্টি ও অবকাঠামো ঠিক না রেখে শুধু আয় বাড়ানোর জন্য সিট বাড়ানো হলে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত, ফ্যাকাল্টি ও ফ্যাসিলিটি ঠিক থাকলে সিট বাড়াতে সমস্যা নেই। কিন্তু মান কমিয়ে সিট বাড়ালে প্রতিষ্ঠানের রেটিং ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad