এবার ১০ দলীয় জোটের সঙ্গে যুক্ত হলো বাংলাদেশ লেবার পার্টি। শনিবার রাতে ঢাকার মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে ‘ঐক্যবদ্ধ ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’র ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জোটে যুক্ত হওয়ার ঘোষণা দেন দলটির চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান ইরান।
সংবাদ সম্মেলনে ইরান বলেন, ‘বিএনপির সঙ্গে শুধু আসন ভাগাভাগি নিয়ে মনোমালিন্য হয়নি। আমি ২০০৬ সালের পর থেকে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন জোটে ২০ বছর থেকেছি। কিন্তু বিএনপি এখন ক্ষমতায় আসলে দলটি ফের আওয়ামী লীগের মতো ফ্যাসিবাদ কায়েম করবে বলে মনে হচ্ছে। যা দলটির প্রকৃত নীতির সঙ্গে যায় না। তাই আমার দলের যতটুকু শক্তি সমর্থ্য আছে তাই নিয়ে ফ্যাসিবাদবিরোধী জামায়াত জোটের সঙ্গে যুক্ত হয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘শুধু আসন ভাগাভাগির হিসাব করলে জামায়াত জোটে যুক্ত হতাম না। কারণ, এখন আমাদের দেওয়ার মতো জামায়াতের কিছু নেই। কিন্তু ইন্ডিয়ান আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত রাখতে জামায়াত জোটে যাচ্ছি।’
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান এটিএম মাসুম বলেন, ‘ঐক্যবদ্ধ চেতনায় দেশ গড়তে লেবার পার্টি ১০ দলীয় জোটে যুক্ত হওয়ায়য় এখন আমাদের জোট ১১ দলীয়।’
দীর্ঘদিন বিএনপি জোটে থাকলেও নির্বাচনের আগে আসন না পাওয়াকে কেন্দ্র করে দলটি জোট ছেড়েছিল।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও দলটির প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়েরসহ জোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
লাভ-ক্ষতির হিসাবে মান্না
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি ও গণতন্ত্র মঞ্চের নেতা মাহমুদুর রহমান মান্নার সঙ্গেও জামায়াতে নেতাদের আলোচনা চললেও লাভ-ক্ষতির হিসাবে তিনি এখনো সিদ্ধান্তহীনতা রয়েছেন বলে জানা গেছে।
জামায়াতের একটি সূত্র বলছে, ‘মাহমুদুর রহমান মান্না ঢাকা-১৮ ও বগুড়া-২ আসনে নির্বাচন করছেন। নানা আইনি জটিলতা মোকাবিলা করে শেষ পর্যন্ত এ দুই আসনে তার মনোনয়ন বৈধ হয়েছে। জামায়াত মান্নাকে যেকোনো একটি আসন ছাড় দিতে চান। তবে, মান্না উভয় আসনেই জোটের সমর্থন নিয়ে ভোট করতে চান। তিনি যেকোনো একটি আসনে জেতার নিশ্চয়তা চাইছেন।’ তাই মান্নার জোটে আসার বিষয়টি এখনো ঝুলে রয়েছে।
মাহমুদুর রহমান মান্না জামায়াত জোটে আসছেন কি না–এমন প্রশ্নের জবাবে শনিবার রাতের সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মাসুম বলেন, ‘এখনো সময় আছে। জানতে পারবেন।’
বগুড়া-২ আসন থেকে প্রাথমিক মনোনয়ন পেলেও মান্নাকে বাদ দিয়ে পরে বিএনপি দলীয় প্রার্থী হিসেবে স্থানীয় নেতা শাহে আলমকে সেখানে চূড়ান্ত মনোনয়ন দিয়েছে।
মান্নাকে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে মন্ত্রী বানানোর প্রস্তাব দিলেও তিনি তাতে রাজি হননি বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ পেয়েছে।
কয়েকদিন থেকে জামায়াত জোটের সঙ্গে আলোচনা চললেও পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি মাহমুদুর রহমান মান্না।
এ বিষয়ে মাহমুদুর রহমান মান্না টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেছেন, ‘আসলে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো এখন সমঝোতা নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। তাই কে কখন কোন দিকে যাচ্ছে, তা বলা কঠিন।’
জামায়াত জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এখনো দলটির সঙ্গে এ বিষয়ে তেমন কথা হয়নি। হয়তো তারা (জামায়াত) নিজেদের মধ্যে আলোচনা করতে পারে। জামায়াত জোটে যাওয়া নিয়ে ‘হাঁ’ বা ‘না’ উত্তর এড়িয়ে তিনি বলেন, দেখা যাক।’
নাগরিক ঐক্যের একজন নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ঢাকা মহানগরের সাবেক সভাপতি বলেন, ‘জামায়াত জোটে গিয়ে এমপি হতে না পারলে অবস্থান নিয়ে সমালোচনা সৃষ্টির পাশাপাশি রাজনৈতিক ক্যারিয়ার আরও নিম্নমুখী হতে পারে মান্নার। তাই বিষয়টি নিয়ে তিনি গভীরভাবে চিন্তাভাবনা করছেন।’


