আগামী ২৭ অক্টোবরের মধ্যে দাবি মানা না হলে দেশব্যাপী বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে জামায়াতে ইসলামীসহ সমমনা দলগুলো।
রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এ হঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব ইউনুস আহমাদ, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আমহদ আব্দুল কাদের, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন, নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইজহার, বাংলাদেশে খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমীর মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, জাগপা সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, মহাসচিব নিজামুল হক নাইমসহ অন্যান্য নেতারা।
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি ও এর ওপর আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যেই গণভোট আয়োজনসহ পাঁচ দফা দাবির পক্ষে আন্দোলনরত দলসমূহ একটি যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, জনগণের দাবির প্রতি কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে না। এ অবস্থায়, জনগণের দাবি আদায়ের জন্য গণআন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই।
তাই, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি ও এই আদেশের ওপর আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যে গণভোট আয়োজনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং ফেব্রুয়ারিতে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিতে রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়া হয়।
আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে সফল গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। ফলে প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে পড়ে এবং সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি হয়। এ পরিস্থিতিতে, জনগণের অভিপ্রায় ও জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়, যার বৈধতা সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭–এ উল্লেখিত জনগণের অভিপ্রায়ে সুনিশ্চিত।‘
সংবাদ সম্মেলনে পাঁচ দফা গণদাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো—১. জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি ও তার ওপর আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যে গণভোট আয়োজন। ২. জাতীয় নির্বাচনে উভয় কক্ষে পিআর পদ্ধতি চালু করা। ৩. অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা। ৪. ফ্যাসিস্ট সরকারের সকল জুলুম–নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করা। ৫. স্বৈরাচারের দোসর জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা।
এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান নেতারা।
এ ছাড়া, চলমান আন্দোলনের চতুর্থ পর্বের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে–২০ অক্টোবর, ঢাকা শহরে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল, ২৫ অক্টোবর, সকল বিভাগীয় শহরে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল এবং ২৭ অক্টোবর, সকল জেলা শহরে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল।


