আগামী সপ্তাহেই পদত্যাগ করছেন রাষ্ট্রপতি

আগামী সপ্তাহেই পদত্যাগ করছেন রাষ্ট্রপতি
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

আগামী সপ্তাহে পদত্যাগ করছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে তিনি পদত‍্যাগ করছেন বলে তার ঘনিষ্ঠ সুত্র টাইমস অব বাংলাদেশকে নিশ্চিত করেছে।

রাষ্ট্রপতির ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ‍্যে তিনি পদত‍্যাগ করে গুলশানের বাসায় উঠবেন।

টাইমসের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বিষয়টি তিনি অস্বীকার না করলেও বিস্তারিত মোবাইল ফোনে বলতে চাননি।

সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি একই বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

আরও পড়ুন

বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর। সেই হিসাবে তার বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের ২৩ এপ্রিল। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে তার মেয়াদের এখনো প্রায় এক বছর আট মাসের বেশি সময় বাকি রয়েছে।

স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে তিনি পদত‍্যাগের ইচ্ছা পোষণ করলেও এর পেছনের কারণ খুঁজতে সরকারের মন্ত্রী এবং বিএনপির অন্তত তিনজন সিনিয়র নেতার সঙ্গে কথা বলেছে টাইমস। তবে তাদের কেউই সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি হননি। দুইজন সিনিয়র মন্ত্রী আগামী সপ্তাহের মধ‍্যে কিছু একটা পরিবর্তন হচ্ছে এমন ইঙ্গিত দেন।

বঙ্গভবনের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে টাইমসকে বলেন, রাষ্টপতি বর্তমানে অসুস্থ। সম্প্রতি তাকে দুই দফায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নিউরোলজি-সংক্রান্ত চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকেরা তাকে উন্নত চিকিৎসা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন। আগামী মাসের প্রথম দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তার সিঙ্গাপুরে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

এদিকে, নতুন রাষ্ট্রপতি পদে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কয়েকটি নাম নিয়ে আলোচনা চলছে।

সম্ভাব্যদের মধ্যে বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণির নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে বিএনপির কোনো দায়িত্বশীল নেতা এ বিষয়ে আগাম তথ্য‍ দিতে চাননি।

রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়টি সংবিধানের ৪৮ ও ১২৩ অনুচ্ছেদ এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী সম্পন্ন হবে। প্রথমে নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে। এরপর মনোনয়নপত্র জমা, যাচাই-বাছাই, আপত্তি নিষ্পত্তি এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের মতো প্রক্রিয়া শেষ হবে। যদি একজন বৈধ প্রার্থী থাকেন, তাহলে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। আর একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকলে জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad