সংশোধন নয়-সংবিধানের সংস্কার চায় জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। এজন্য তারা জাতীয় সংসদে বিশেষ কমিটি গঠন করে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলের পক্ষে এ অবস্থান তুলে ধরেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেন, ‘আমরা সংবিধানের কোনো আংশিক সংশোধন বা সংসদীয় বিশেষ কমিটির উদ্যোগ সমর্থন করি না। গণরায় অনুযায়ী পুরো সংবিধানের পূর্ণাঙ্গ সংস্কার চাই।’
গোলাম পারওয়ার আরও বলেন, গণভোটের মাধ্যমে জনগণ সংবিধান সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে। এখন গণরায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর মাধ্যমেই সংস্কার প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে ৬৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ ভোটার সাংবিধানিক সংস্কারের পক্ষে রায় দেন। ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ অনুযায়ী নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের একই সাথে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করার কথা। ১১ দলের প্রতিনিধিরা উভয় পদে শপথ নিলেও সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে বিএনপি থেকে নির্বাচিত সদস্যরা কেবল সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন বলে অভিযোগ তোলা হয়।
১১ দলের নেতারা মনে করেন, সংসদ সংবিধানের সৃষ্টি—জনগণ নয়। সুতরাং, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও আদালতের ‘বেসিক স্ট্রাকচার ডকট্রিন’ এবং গণরায় উপেক্ষা করে মূল সংবিধান পরিবর্তন করার অধিকার সংসদের নেই।
বিশেষ কমিটিতে যোগ না দেওয়ার ব্যাখ্যায় নেতারা জানান, অসাংবিধানিক কোনো প্রক্রিয়াকে তারা স্বীকৃতি দেবেন না। এছাড়া গণভোটে বিপুল ব্যবধানে প্রস্তাব পাস হওয়ায় রাজনৈতিক দলগুলোর আগের সব ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (ভিন্নমত) স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে গেছে বলেও দাবি করেন জোটের অন্যতম লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান।
সংবাদ সম্মেলন থেকে গণভোটের রায় অবিলম্বে বাস্তবায়ন, সংসদীয় বিশেষ কমিটি বাতিল এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ কার্যকর করার দাবিসহ ৬ দফা দাবি পেশ করা হয়। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেয় ১১ দলীয় জোট।


