লোহিত সাগরে চলাচলরত সৌদি আরবের দুটি তেলবাহী জাহাজে হামলার দাবি করেছে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী। সৌদি আরবের ঘোষিত সামুদ্রিক অবরোধ অমান্য করার অভিযোগে ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন দিয়ে এই হামলা চালানো হয়। সৌদি আরব এ বিষয়ে এখনও কোনো মন্তব্য করেনি।
আল জাজিরাকে হুথির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি জানান, বুধবার সশস্ত্র বাহিনীর ঘোষিত অবরোধ অমান্য করায় ‘এনসেলা’ ও ‘লাইলিয়া’ নামের দুটি সৌদি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানো হয়। হামলায় জাহাজ দুটিতে আগুন ধরে যায় এবং আরও প্রায় ১০টি জাহাজ পথ পরিবর্তন করে ফিরে যেতে বাধ্য হয়।
যুক্তরাজ্য মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রসদৃশ বস্তুর আঘাতে একটি ট্যাংকারে আগুন লেগেছে এবং ক্রুরা তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন।
ইয়েমেনের সরকার ও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিরুদ্ধে লড়াইরত হুথিরা গত ২০ জুলাই ‘চোখের বদলে চোখ’ নীতিতে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণা করে। ২০১৪ সালে সানা দখলকারী গোষ্ঠীটির অভিযোগ, প্রায় ১২ বছর ধরে সৌদি আরব ইয়েমেনের স্থল, সমুদ্র ও আকাশপথ অবরুদ্ধ রেখেছে। রিয়াদ বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় সৌদি আরব লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনের চেষ্টা করছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর এই এলাকায় হামলা শুরু করে হুথিরা। ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর হামলা বন্ধ হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন করে এই পথও হুমকির মুখে পড়েছে।
লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযুক্তকারী বাব আল-মান্দেব প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। ইয়েমেনের উপকূল ও হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চলের মধ্যবর্তী এই প্রণালির সবচেয়ে সরু অংশের প্রস্থ মাত্র ২৯ কিলোমিটার। ২০২৪ সালে এই প্রণালি দিয়ে প্রায় ৪১০ কোটি ব্যারেল জ্বালানি তেল পরিবহন করা হয়েছে, যা বৈশ্বিক মোট জ্বালানির প্রায় ৫ শতাংশ।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ রয়েছে। এর সঙ্গে বাব আল-মান্দেব প্রণালি অচল হলে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২৫ শতাংশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।


