সৌদির সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি সই করল যুক্তরাষ্ট্র

সৌদির সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি সই করল যুক্তরাষ্ট্র
ছবি: এএফপি/বাসস
Advertisement
Advertisement

সৌদি আরবের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি সই করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এই চুক্তির ফলে দেশটির নিজস্ব পারমাণবিক চুল্লির জন্য জ্বালানি সমৃদ্ধ করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান দীর্ঘদিন ধরে এই চুক্তির চেষ্টা চালাচ্ছিলেন।

এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের রাজনৈতিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করে। চুক্তিটির মেয়াদ ৩০ বছর। এর মাধ্যমে সৌদি আরবের পারমাণবিক শিল্পে অন্য দেশের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়।

চুক্তিটি অনুমোদনের জন্য মার্কিন কংগ্রেসে পাঠানো হবে। সেখানে রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের কাছ থেকে এটি সমর্থন পেতে পারে। তবে কিছু মার্কিন আইনপ্রণেতা এবং ইসরায়েলি কর্মকর্তা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এই বেসামরিক পারমাণবিক প্রকল্পের সুযোগ নিয়ে সৌদি আরব ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এমন বহু চুক্তি রয়েছে। তবে এই চুক্তি চূড়ান্ত করতে মার্কিন কর্মকর্তারা কিছু শর্ত মেনে নিয়েছেন। এটি সৌদি আরবের পারমাণবিক কর্মসূচি মূল্যায়নে আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের সক্ষমতা সীমিত করতে পারে।

চুক্তির পূর্ণাঙ্গ পাঠ প্রকাশ করা হয়নি। তবে বিবিসি জানিয়েছে, ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে সৌদি আরবকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অনুমতি দেওয়া হতে পারে।

সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বেসামরিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এর সামরিক ব্যবহারও রয়েছে। এতে এই সংবেদনশীল অঞ্চলে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তারের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটনের জন্য এমন শর্ত নজিরবিহীন।

আরও পড়ুন

সহযোগিতা চুক্তির পাশাপাশি জ্বালানি বিভাগ একটি ‘দ্বিপক্ষীয় সুরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

বিবৃতির ভাষ্য অনুযায়ী, এই দুটি চুক্তি কয়েক দশকব্যাপী বহুবর্ষীয় ও কোটি ডলারের অংশীদারিত্বের আইনি ভিত্তি তৈরি করে। এটি পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধসহ বিভিন্ন কৌশলগত ও অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার অর্জন ত্বরান্বিত করে।

সৌদি আরবও একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। ওয়াশিংটনের সঙ্গে বিদ্যমান জ্বালানি খাতের সহযোগিতার প্রসার হিসেবে চুক্তিটিকে বর্ণনা করা হয়। গত নভেম্বরে সৌদি নেতার মার্কিন রাজধানী সফরের পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই এই ঘোষণা এল। সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মিত্র। দেশটিতে একাধিক মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে। সম্প্রতি এসব ঘাঁটিতে ইরানি হামলা হয়েছে।

তেহরানপন্থী ইয়েমেনের হুথি আন্দোলন সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ‘সামুদ্রিক অবরোধ’ ঘোষণার মাত্র দুই দিন পর চুক্তিটি প্রকাশ করা হয়।

নির্দিষ্ট শর্ত প্রকাশ করা না হলেও আগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াশিংটনের সঙ্গে যৌথ গবেষণার পর সৌদি আরব আমদানীকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভর না করে মার্কিন নির্মিত কেন্দ্রে নিজস্ব ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারে।
এই প্রকল্প মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য শত কোটি ডলারের হতে পারে। কারণ মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো সমৃদ্ধকরণ প্ল্যান্ট নির্মাণ ও পরিচালনায় যুক্ত থাকবে।

সমালোচকদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছেন মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট। তিনি জানান, পারমাণবিক নিরাপত্তা ও অস্ত্র বিস্তার রোধের সর্বোচ্চ মান বজায় রেখেই চুক্তি করা হয়েছে। এতে বিশ্বের সেরা পারমাণবিক প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানীদের যুক্ত করা হবে, যা যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি।

জ্বালানি বিভাগ আরও জানায়, এই চুক্তি আঞ্চলিক ও মার্কিন নিরাপত্তা জোরদার করে। পাশাপাশি বেসামরিক পারমাণবিক প্রযুক্তিতে আমেরিকার প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়ায়।

তবে পারমাণবিক বিশেষজ্ঞ ও সাবেক ইসরায়েলি কর্মকর্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সৌদি আরব ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনে সক্ষম হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পথ পাড়ি দিতে কয়েক দশক সময় লাগবে এবং কড়া আন্তর্জাতিক প্রতিবাদের মুখে পড়তে হবে। ডিফেন্স প্রায়োরিটিজ থিঙ্ক ট্যাংকের মধ্যপ্রাচ্য কর্মসূচির পরিচালক রোজমেরি কেলানিক বলেন, চুক্তিটি রিয়াদকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্ল্যান্ট পরিচালনার অনুমতি দিলে তা অত্যন্ত অবাক করার মতো বিষয় হবে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad